গেইল থাকতেও পারেন!
ঢাকা: ক্রিস গেইল জানালেন, দেশে ফিরে যাবেন কালই। একটি ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন। খেললেন এবং ম্যাচ জিতেছেন, এখন চলে যাবেন। এটা গেইলেরই ভাষ্য। কিন্তু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী বলছেন অন্য কথা,‘এখনই বলা যাচ্ছে না গেইল যাবে। কথা বলে দেখি কি হয়। পোলার্ড থাকতে পালে সেও তো থাকতে পারে। এখনই তো জাতীয় দলের কোন খেলা নেই। সে তো এই ম্যাচেও আসতে চায়নি। টাকা বাড়িয়ে দিলে ঠিকই থাকবে। সব বিদেশিই তো এখন চলে যেতে চায়। এটা বলে সবাই টাকা বাড়াড়ে চায়। লুক রাইটও আসছে খেলতে।’
শেষপর্যন্ত গেইল চলে গেলেও দুঃখ থাকবে না সেলিম চৌধুরীর। রেস-টু-ফাইনাল ম্যাচে ১১৪ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে মন ভরিয়ে দিয়েছে সবার। সেলিম চৌধুরী সেটা স্বীকারও করলেন,‘তাকে আনাটা স্বার্থক। সে সবার মন ভরিয়ে দিয়েছে।’
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে চার-ছক্কার ফুঁয়ারা ছুটিয়েছেন ক্যারিবীয় হারিকেন। ৫১ বলে পাঁচ চার ও ১২ ছয়ের সাহায্যে ইনিংসটি সাজিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
গেইলের সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান করে গ্ল্যাডিয়েটরস। এই রান মোকাবেলা করেও লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সিলেট। টান টান উত্তেজনার ম্যাচ গ্ল্যাডিয়েটরস জিতেছে চার রানে। গেইলের মুখেই বাকিটা শোনা যাক,‘ক্লোজ একটা ম্যাচ হয়েছে। শেষ ওভারে তাদের ২৪ রান দরকার ছিল। প্রথম দুই বলে ছয় নিলে যে কোন বোলারই চাপে পড়ে। শেষপর্যন্ত আমরা জিতেছি। ভালো একটা গেম হয়েছে।’
পহেলা ফাল্গুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই ম্যাচে আট রান করেছেন গেইল। খেলা শেষ করে উড়াল দিয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। কাইরান পোলার্ডকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এসে পৌঁছান ঢাকায়। ভ্রমন ক্লান্তি নিয়েই মাঠে নামেন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায়। ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন স্লো। ২৯ বলে ২৭ রান হওয়ার পর ঝড় তোলেন। শেষ ২২ বলে করেন ৮৭ রান। সেঞ্চুরির গল্প বললেন এভাবে,‘লম্বা ফ্লাইট ছিল। সোজা অস্ট্রেলিয়া থেকে গত রাতে এসে ম্যাচ খেলা সহজ ছিল না। পোলার্ড এবং আমাকে যেটা করা দরকার ছিল সেটা দিয়ে দলকে ফাইনালে উন্নীত করেছি।’
সোহাগ গাজীর জন্যই গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশের পক্ষে জ্বলে উঠতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়া সফরেও ফর্মহীন কেটেছে। কিন্তু বিপিএলে এসে বাজিমাত করে দিলেন। এবারও সোহাগ গাজীর বল মোকাবেলা করতে হয়েছে গেইলকে। সংবাদ সম্মেলনে এসেও গাজীকে নিয়েই প্রশ্ন উঠলে বিরক্তিই ছিল তার স্বরে,‘সবাই প্রশ্ন করে গাজী গাজী গাজী। আমি মনে করি বোলার আমাকে বেশি ভয় পায়। এতে কিছু আসে যায় না কতবার তারা আমাকে আউট করেছে। গত সিরিজে গাজী আমাকে ২ বা ৩ বার আউট করেছে। আগেও আমি বড় বড় স্পিনারদের ওপর প্রধান্য বিস্তার করেছি। এটা ভিন্ন একটা সময়।’
বাংলাদেশ সময়: ২৩১৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৩
এসএ