 |
| ছবি: সবিতা/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
নয়াপল্টন থেকে: দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের ডাকা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি সফল বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অবরোধ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি জানান, সন্ধ্যায় জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। বৈঠকটি হবে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে। নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে রোববার বা সোমবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
অবরোধে সারা দেশে নিহত, আহত ও আটকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিহতের সংখ্যা ৪, আহত হয়েছে ছয় শতাধিক, আটক হয়েছেন ৪৭০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় আটক হয়েছেন ২২৫ জন, আহত ৪৭০ জন।”
মির্জা ফখরুলের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজনই বিএনপির কর্মী এবং একজন জামায়াতের। এর মধ্যে অবরোধের দিন তিনজন ও শনিবার রাতে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে তিনি দাবি করেছেন।
মির্জা ফখরুল জানান, আহতদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র নেতারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম পল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সহ-সভাপতি ফারুক প্রমুখ। এছাড়া ধানমন্ডিতে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল মান্নানের বাসায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “অবরোধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, সরকারের প্রতি কারো আস্থা নেই। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম প্রমুখ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনটি ইস্যুতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট আগামী ১১ বা ১২ ডিসেম্বরের যে কোনো একদিন হরতাল ডাকতে পারে। ইস্যু তিনটির মধ্যে আছে, ১. জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, শিগগির জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে সরকার। ২. জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণা, যে কোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে ও ৩. অবরোধের দিনে রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন। এসবের প্রতিবাদে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারে ১৮ দলীয় জোট।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৯, ২০১২
এমএম/এসকেএস/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর/জেডএম/আরআর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর