কক্সবাজার: টানা ৬ দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সন্ধ্যায় কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন বাস চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। ফলে বাস কাউন্টারগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উপড়ে পড়া ভীড়।
বৃহস্পতিবার সাঈদীর ফাঁসি আদেশের পর দেশব্যাপী সৃষ্টি হয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। এতে কক্সবাজার চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে সৃষ্টি করা হয় অবরোধের। একই সঙ্গে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা হামলা চালিয়ে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বাস ভাঙচুর করে। এরপর রোববার থেকে টানা ৩ দিনের হরতালে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কক্সবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি খোরশেদ আলম বাংলানিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কোনো হরতাল না থাকলেও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৬টি শ্যামলী ও ৫টি ইউনিক পরিবহনসহ ২৫টিরও বেশি ছোট বড় যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
এসব ঘটনায় চালকসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া, আজিজ নগর, চুনতি, পদুয়া, লোহাগাড়া ও ঈদগাঁও এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্নভাবে শিবিরকর্মীরা যাত্রীবাহি যানবাহন গুলোর ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়। একই সঙ্গে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বিভিন্নস্থানে গাছ দিয়ে ব্যারিকেট সৃষ্টি করা হয়।
এর ফলে কক্সবাজারে আটকা পড়ে অনেক পর্যটক। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ বিমান ও জাহাজে করে আড়াই শতাধিক পর্যটককে গন্তব্যে পৌঁছানো হলেও আরও আটকে থাকে ৫ শতাধিক পর্যটক।
বাস শ্রমিকরা জানায়, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত জামায়াত ও বিএনপির টানা ৩ দিনের হরতালের পর পুলিশ পাহারায় প্রায় ৫০টি দূরপাল্লা বাস কক্সবাজার ছেড়ে যায়। সন্ধ্যায় থেকে বাস কাউন্টারগুলোতে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। অনেকে টিকেট না পেয়ে ফিরে গেছে। স্বাভাবিক থাকলে তারা নিয়মিত যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হবে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) আজাদ মিয়া বাংলানিউজকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও অবরোধ নেই। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০১৩
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর