 |
| ছবি: নাজমুল হাসান /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
মহানগর নাট্যমঞ্চ চত্বর (গুলিস্তান) থেকে: শেষ হয়ে আসছে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচি। ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চ চত্বরে সকাল দশটায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে যোগ দিয়েছেন জোট নেতা খালেদা জিয়া। বিকেল চারটায় তার বক্তব্যের মাধ্যমেই এ কর্মসূচির সমাপ্তি টানা হবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
এদিকে দীর্ঘ অনশনে ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের দুপুরের পর চাঙ্গা করে তোলে দু’টি গণসঙ্গীত। যুবদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন নাসির ওই দুই সংগীত পরিবেশনকালে মঞ্চে উপবিষ্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা তালে তালে করতালি দেন।
এর আগে অনশনস্থলে উপস্থিত সংবাদ ও নিরাপত্তা কর্মীদের খাবার সরবরাহ করার সময় বিএনপি নেতা-কর্মীরাদেরও খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
এদিকে অনশন মঞ্চে বক্তৃতা করা ১৮ দলীয় জোট নেতারা সরকারের নানা অনিমত, দুর্নীতি ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।
সাবেক সচিব আসাফুদ্দৌলা বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেমন দেশের সব মানুষকে কোন না কোনভাবে মূল্য দিতে হয়েছে তেমনি বর্তমানে সব মানুষই কোন না কোনভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লাগাতার হরতাল করেছেন। এখন বলছে, তত্ত্বাবধায়ক নাকি অবৈধ হয়ে গেছে।’
এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানকে খুনি আখ্যা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।
আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকর, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আনহ আখতার হোসেন, স্থায়ী কমিটির কারান্তরীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনিপ চেয়ারপারসনের উপদেস্টা ফজলুর রহমান পটল, সংরক্ষিত আসনের এমপি আশিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল লতিফ, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জাসাস এর সভাপতি এম এ মালেক, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আব্দুল হালিম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লেবার পার্টির সভাপতি ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এলডিপির যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, ডিপ্লোমো পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জি: মো. হানিফ প্রমুখ।
বস্তৃত ১৮ দলীয় জোটের গণঅনশন জনসমাবেশে পরিণত হয়। মহানগর নাট্যমঞ্চ চত্বর তো বটেই, একে ঘিরে থাকা চতুর্পাশের সড়কগুলোও হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। রাজউক মোড় থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত সড়ক যেন অনশনস্থলেরই অংশ হয়ে ওঠে।
দুপুর ১টা নাগাদ অনশন চত্বরে এসে কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঞ্চে থেকে সরাসরি অনশন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।
এর আগে খালেদা জিয়া সকাল ১০টা ৫০ মিনিটেই গুলশানের বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে পৌনে ১২টা নাগাদ অনশন মঞ্চে পৌছান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার প্রতিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে এ গণঅনশন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২৭ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর