 |
সংসদ ভবন থেকে: চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট ৫৯ হাজার ৯১২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এবং বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ। অপরদিকে ৬ মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। যা বরাদ্দের ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি বিগত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা বেশি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০১২-১৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মুহিত বলেন, ‘‘মৌসুম প্রভাবের কারণে সাধারণত অর্থ বছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধি পায়। সে বিবেচনায় রাজস্ব আহরণ ধারা সন্তোষজনক বলে আমি মনে করি। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা।’’
সংসদে তিনি বলেন, আদায়কৃত ৫৯ হাজার ৯১২ কোটি টাকা রাজস্বের মধ্যে কর রাজস্ব ৪৭ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। আর করবহির্ভুত আয় ১২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। যা বিগত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ছিলো যথাক্রমে ৪১ হাজার ৪৩ কোটি এবং ১০ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরের ৬ মাসে রাজস্ব সংগ্রহের মোট পরিমাণ ছিলো ৫১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১১-১২ অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এনবিআরের কর রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এনবিআর বহির্ভুত কর রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আর কর বহির্ভুত রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা অনুন্নয়ন ব্যয়। বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ মাসে সরকারি ব্যয় ৬৩ হাজার ৯০৩ টাকা। বিগত ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিলো ৬১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোট ব্যয়ের ৫১ হাজার ৯১ কোটি টাকা অনুন্নয়ন ব্যয়। যা মোট বরাদ্দের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। যা বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
তিনি জানান, বিগত বছরে অনুন্নয়ন ব্যয় ছিলো ৫০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি বছরের ৬ মাসে হয়েছে ৫১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। অন্যদিকে এডিপি ব্যয় ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিলো ১০ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিপিতে বিদেশি সাহায্যের ব্যবহার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রকল্প সাহায্য ব্যবহার ২৭ শতাংশ। যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। আমাদের অব্যাহত চেষ্টার কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে আমাদের রাজস্ব আয় বিপুল পরিমাণ বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনীকিকরণ কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব প্রক্রিয়া অটোমেশন, ওয়েব ভিত্তিক সেবা চালু করণ, করের আওতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন করদাতা খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’’
‘‘এছাড়া এনবিআরের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে বিকল্প নিরোধ নিষ্পত্তি, কর আদায় ইউনিটগুলোকে গতিশীল করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোর পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। এর ধারায় প্রত্যক্ষ কর আইনটিও দ্রæত পাস হবে বলে আমি আশা করি।’’
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্য মেয়াদে রাজস্ব আহরণ কাঙ্খিত হারে বাড়বে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০১৩
এসএআর/এসএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com