20130204165929.jpg) |
| ছবি: জনি /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালের আগের রাতে চলন্ত বাসে দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া এবি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ (৩০)বাবা ডাক শুনে যেতে পেলেন না।
বাবা ডাক শোনার আগেই সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।
রাসেল মাত্র দুই মাস আগে একটা কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছেন।বিয়ে করেছেন দেড় বছর আগে। কিন্তু কন্যা সন্তানের মুখ থেকে বাবা ডাক তার শোনা হলো না।
একদিকে তিনি যেমন কন্যা সন্তানের মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে পারেনি অপর দিকে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে গেছে নিজ পরিচয়টুকুও। রাতে উত্তরা থানায় এসে নিজ ভাই রাশেদ মাহমুদকেও বলতে হলো, নিহত ব্যক্তি তাঁর ভাই হতে পারে।
রাসেল কাকরাইল শাখার এবি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে সবাই বাসটি থেকে নামতে পারলেও তিনি পারেনি।
টঙ্গীর একটি হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখানোর পর নর্দার নিজ বাসায় আসছিলেন রাসেল।সঙ্গে ছিলেন বাবা ইসমাইল হোসেনও।
আহত ইসমাইল হোসেন উত্তরার আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে চুলসহ তার শরীরের অনেক অংশই পুড়ে গেছে।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কোনো মিটিং মিছিল ছিলনা হঠাৎ করে একটা আগুনের গোলা যেন বাসটিকে ঘিরে ফেলেছে পেছন থেকে। সবাই নামলে আমার ছেলে রাসেল নামতে পারেনি।
কারণ আমার ছেলে অসুস্থ ছিল। সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড ধোঁয়ার কুণ্ডলীও। তাঁকে ডাক্তার দেখানোর পর টঙ্গী থেকে নর্দার বাসায় আসছিলাম।
হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন বাবা এখনও জানেনা তাঁর সন্তানের কি অবস্থা। তবে তিনি বার বার প্রলাপ বকছেন আর বলছেন আমার ছেলে মনে হয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
নিহতের যতটুকু পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁর বাবা ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে। কারণ মধ্যরাতে উত্তরা পূর্ব থানায় গিয়ে দেখা যায় লাশ চেনার কোনো উপায় নেই। দৃর্বৃত্তদের আগুনে রাসেলের পরিচয়টুকুও পুড়িয়ে দিয়েছে।
নিহতের দাঁত ছাড়া শরীরের কোনো অংশই আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পায়নি। উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশের সাদা প্যাকেটে রাখা হয়েছে রাসেলের পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া একদলা লাশ।
এ বিষয়ে রাত দুটায় কথা হয় সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসার আলী হোসেনের সঙ্গে। তিনি লাশের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানান।
এমনকি লাশের কোনো আত্মীয়-স্বজন আসেনি। তাছাড়া লাশের যে পরিস্থিতি ময়না তদন্ত ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এখনও পর্যন্ত কারোর নামে মামলাও করা হয়নি।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ কমিশনার নিশারুল আরিফ বাংলানিউজকে বলেন টঙ্গী থেকে সায়েদাবাদগামী তুরাগ পরিবহনের বাসটির ভেতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং ওভারব্রিজ অতিক্রম করার পরই আগুনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আজমপুরে বাসটি থামানোর পরপরই যাত্রীরা নেমে যায়। তাদের মধ্যে একজন যাত্রী নামতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য: সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে উত্তরায় টঙ্গী-সায়দাবাদগামী জে এস তুরাগ সিটিং সার্ভিসের(ঢাকা মেট্র-জ-১৪-২২৭৪) একটি বাসে অগ্নিদগ্ধ হন রাসেল। বর্তমানে রাসেল মাহমুদের পুড়ে অঙ্গার হওয়া লাশ ও বাসটি নগরীর উত্তরা পূর্ব থানা হেফাজতে আছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫ ২০১৩
এমআইএস/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর