 |
| ছবি: জীবন আমীর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি। চলছে প্রতিবাদী স্লোগান। প্রাণের দাবির সেই স্লোগান ছেড়ে উঠতে মন সায় দেননি লতা রানী চক্রবর্তীর। তাই কর্দমাক্ত গণজাগরণ চত্বরে বসেই তিনি স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম।
কয়েক দিনের টানা কর্মসূচির কারণে পরিষ্কার করা যায়নি মূল গণজাগরণ চত্বরটি। বাদামের খোসা, উচ্ছিষ্ট কাগজের টুকরো পড়ে ময়লা, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এখন গণজাগরণ চত্বরে। কিন্তু লতা রানী অবলীলায় বসে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো কিছুই স্পর্শ করতে পারছে না তাকে।
ইডেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের এই ছাত্রীটি বাংলানিউজকে বলেন, “চূড়ান্ত স্বাধীনতার জন্য মরতেও প্রস্তুত আছি। সেখানে বৃষ্টি আমাদের দমাতে পারবে না। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে মৃত্যু হলেও হাসি মুখে তা বরণ করবো।”
রোববার সকালেই তিনি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন নিজ বাড়ি সাভার থেকে এসে। কয়েক দিন না আসতে পেরে মনের মধ্যে ‘অপরাধবোধ’ ছিল তার। তাইতো বৃষ্টির পানিতে সেই ‘অপরাধবোধ’ ধুয়ে ফেলতে চান তিনি।
লতা রানীর মতো আরও অনেকেই ওই কর্দমাক্ত শাহবাগের রাস্তায় অবস্থান করছেন। রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে শিক্ষার্থী। বৃষ্টি দমাতে পারেনি তাদের। অদম্য মনবল নিয়ে আন্দোলনে একাকার হয়ে গেছেন সবাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা ও নাবিলা ইয়াসমিনও রয়েছেন সেখানে।
নাবিলা বাংলানিউজকে বলেন, “বুকের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তাতে এই বৃষ্টি কোনো বিষয় নয়। ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরছি না।”
কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে চলমান গণআন্দোলনের ১৩তম দিন রোববার। গণআন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এ গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেন লাখো জনতা। এছাড়া সারা দেশ জুড়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩ মিনিটের স্তব্ধতা কর্মসূচি, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কর্মসূচি।
শুক্রবার রাতে ব্লগার রাজীব শিবির ক্যাডারদের হাতে শহীদ হওয়ার পরে গণআন্দোলন আরো বেগবান হয়েছে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
ইএস/এমআইএইচ/ সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর