 |
গাইবান্ধা: পানি বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। ভাঙন শুরু হয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে।
গিদারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক লেবু বাংলানিউজকে জানান, গত এক সপ্তাহের ভাঙনে ৫০ বিঘা আবাদি জমিসহ প্রায় দেড়শ’ পরিবারের ভিটেমাটি ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি জানান, ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। হুমকির মুখে পড়বে ছয়টি গ্রামের আরও সহস্রাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে শতাধিক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) এই মুহুর্তে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে এক থেকে দেড় হাজার পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ওই এলকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ওই ইউনিয়নের দালাতি পাড়া, ফারাজি পাড়া, মাটিখোঁড়া, ধুতিচোরা, চাপগাঁও, ডাঙ্গারঘাটসহ ছয় গ্রামের মানুষ নদী ভাঙনের কবল থেকে কীভাবে নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষা করবে সেই ভাবনায় দিন কাটাচ্ছে।
দালাতিপাড়া গ্রামের মোজদার আলী (৫২) জানান, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। এদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ স্থানীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ঘর তুলতে গেলে সেখানকার কিছু লোক তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে ঘর তুলতে দেয় না তারা।
গিদারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক লেবু বলেন, পাউবো কর্তৃপক্ষকে নদী ভাঙনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন মোকাবেলার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল মোস্তা আশাফুদ্দৌলা বাংলানিউজকে জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পাউবো’র নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২১ ঘণ্টা, জুন ০৩, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর