 |
| ছবি: জীবন আমীর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
কল্যাণপুর থেকে: স্কুলে যাওয়ার আগে দেখছি ঘর আছে। স্কুল থেকে আসি দেহি ঘর নাই। পরনের ছুট (পোশাক) ছাড়া কোন জিনিস নাইরে ভাই। এখন আমি স্কুলে যাবু কেমনে রে ভাই।
এ আক্ষেপ আর আর্তনাদ কল্যাণপুর বস্তিতে আগুনে সব পুড়ে যাওয়া লাকী’র। লাকী জানায়, সে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে।
দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। বাবা নিজাম উদ্দিন পোড়া বস্তিতে লাকড়ীর ব্যবসা করেন। মা শাইমা, অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ভাই বোন তিনজনই স্কুলে যায়।
সে আরো জানায়, আগুন লাগার পরপরই কাকী (চাচী) শাহনাজ স্কুলে গিয়ে তাদের জানায়। এরপর ছুটে এসেও ঘরে তালা দেওয়া থাকায় আগুন লাগার পর কিছুই আনতে পারেনি।
লাকী বলে, আমার বাবা ঋণ নিয়ে লাড়কীর ব্যবসা করে। আমাদের ঘরে যা ছিল সব পুড়ে গেছে। বই থেকে শুরু করে কিছুই নেই শুধু পরনের কাপড় ছাড়া। আমার মা পাগলের মতো হয়ে গেছে। কোথায় থাকবো, কি খাব, কিভাবে স্কুলে যাব বলে অনবরত আক্ষেপ করছে সে।
লাকীর মা শাইমা বিলাপের সূরে বলছে, ‘হায়রে আগুন রে, আর কোন জায়গা পাইলি নারে। এখন কোথায় যাব ছেলেমেয়ে নিয়া। আগুনে আমার কপাল পুড়লরে ভাই। আমার স্বামী আগুনের কথা হুইনা সেখানে বেহুশ হইছে রে ভাই রে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৩
আরইউ/জেডএম