 |
| ছবি: জাহিদ সায়মন/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর থেকে: ঘড়ির কাঁটা বলে সময় এখন মধ্যরাত। তাতে কি! শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সেদিকে ভ্রক্ষেপ নেই। সেখানে অনবরত চলছে স্লোগান। চলছে জাগরণের আহবান। চলছে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উদগিরণ। এরই মাঝে স্লোগানে কিছুটা পরিবর্তনও এসেছে মঞ্চে।
স্লোগানে স্লোগানে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের ডাকা হরতাল প্রত্যাখানের খবর। বাংলার মানুষ হরতাল প্রত্যাখান করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করেছে। সোমবার জামায়াতের ডাকা হরতালে গাড়ির চাকা ঘুরেছে। দোকান-পাট খুলেছে। স্কুলে ক্লাস হয়েছে।
এসব বিষয়ে আন্দোলনকারী শিহাব বলেন, ‘এমন হরতাল বাংলাদেশে আর এসেছে কি না ইতিহাস খুঁজে দেখতে হবে। যে হরতালে মানুষকে ঘরে রাখা যায়নি। তবে পিকেটাররা ঘরেই ছিল। জন জাগরণের ফলে হরতাল ডেকেও তারা লুকিয়েছিল। আর এজন্যই আমাদের স্লোগানে যুক্ত হয়েছে নতুন লাইন-‘গাড়ির চাকা ঘুরেছে, দোকান-পাট খুলেছে’।’
এছাড়া নিমর্মভাবে নিহত ব্লগার রাজীবকে নিয়েও চলছে স্লোগান। রাতে তুলনামূলক মানুষ কমে আসলেও কমেনি স্লোগানের তেজ। কমেনি রাজাকারদের প্রতি উপস্থিত মানুষের ঘৃণা আর ক্ষোভ। সেসবেরই প্রমাণ এক একটি তেজদিপ্ত সব স্লোগাণ।
আর প্রতিটি স্লোগানের উত্তরে প্রতিস্লোগান। আন্দোলনকারীরা জানান দিচ্ছে তারা জেগে আছে সমগ্র জাতির হয়ে। বিজয় ছিনিযে আনতে তারা এখানে অতন্দ্র প্রহরী।
তাদের দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে- ‘রাজাকারদের ফাঁসি এবার দিয়ে দাও, জণগণ জেগে আছে।’
‘জনগণ দাবি আদায় করতে পারে।’
‘রাজিবের রক্ত বৃথা যেতে পারেনা।’
‘কে বলেছে রাজিব নাই, রাজিব সারা বাংলায়।’
‘দিয়েছিতো রক্ত, আরো দেব রক্ত।’
‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়।’
জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সোমবার ছিল ১৪তম দিন। এই আন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে।প্রতিদিনই যেনো বাড়ছে এ গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এই বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেয় লাখো জনতা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সময়: ০১৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
এসএ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর