 |
| ছবি : জাহিদ সায়মন /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর থেকে: ‘টিভিতে খেলা দেখছিলাম। এর মধ্যে খবরে দেখলাম শাহবাগে অনেক মানুষ আন্দোলন করছেন। আব্বাকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চলছে।’
‘তখনই ভেবেছি এখানে আসবোই। এরপর সময় করে গতকালই চলে এসেছি।’
শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের আন্দোলনে যোগ দিতে সাভার থেকে ছুটে আসা মাসুদ শিকদার বলছিল কথাগুলো। সাভার রুস্তমপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র সে।
বাংলানিউজকে সে জানায়, শাহবাগে আসার কথা শুনে প্রথম দিকে আব্বা বলেছিলেন ওখানে গেলে তুমি হারিয়ে যাবে। কিন্তু পরে আর বাধা দেননি। আমার গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্লাসও নেই। এজন্য সোমবার দুপুরেই চলে এসেছি।
মাসুদ জানায়, আমি জীবনে কনো স্লোগান দেইনি। তবে এখানে আসার পর থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটানা স্লোগান দিচ্ছি। অন্য রকম করে কেটে গেছে সারাদিন। বুঝতেই পারিনি।
তবে একটানা স্লোগানে কিছুটা ক্লান্ত মাসুদ জানায়, তিন চারদিন থাকার মত কাপড় আর পড়ার বই সঙ্গে নিয়েই এখানে এসেছিল সে। কিন্তু ২০ তারিখের আগে তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকায় কালই বাড়ি ফিরে যাবে সে। আবার ফিরবে ২০ তারিখ শহীদদের উদ্দেশ্যে বেলুন ওড়ানোর দিন।
তবে মঙ্গলবার সকালে এখানে নিহত ব্লগার ও কার্টুনিস্ট শান্ত’র জানাজা না পড়ে শাহবাগ ছাড়বে না বলেও জানায় সে।
বাবার কাছ থেকে ৫০০ টাকা আর ব্যাগ ভর্তি কাপড়, বই নিয়ে শাহবাগে হাজির হওয়া মাসুদ আরো জানায়, কোনো বন্ধু ছাড়াই এখানে চলে আসে সে। প্রথম প্রথম একটু বিচ্ছিন্ন আর একা একা লাগলেও কখন যে এই গণ মিছিলে মিশে গেছে বলতেই পারে না।
মাসুদ বলে, ‘‘বইয়ে রাজাকারদের কথা পড়েছি। তবে শাহবাগের স্লোগানের সঙ্গে আমিও একমত। রাজাকারদের অনেক বড় শাস্তি হওয়া উচিত।’’
বাংলাদেশ সময়: ১১০২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
জেপি/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর