 |
রূপান্তর
ভাবছি— এ বছর পাখিদের দলে যোগ দেবো
ভুবনচিলের কাছে প্রস্তাব করেছি উড্ডয়ন খ্যাতি
আরেকবার নিপতিত হবার আগেই মেঘপাহাড়ের
শীর্ষে রেখে আসবো অগ্নিবায়ু— এতকাল যে
উঠতি যুবতীর শরীরের ভেতর লুকিয়ে ছিল।
ঐ যে ধীমান-যুবক গ্রহরাশি যাকে সন্ধান করে
শীতভর্তি শরীরে কুয়াশা-কঙ্কর ভেঙ্গে পা
বাড়িয়েছিল হিমালয়ের খোঁজে। যেখানে এক
বিচরণশীল বর্ষীয়াণ কচ্ছপ যে কি না ঝর্ণাকে
সামনে বসিয়ে ছন্দ শেখায়। যার পায়ের
নিচেই কেবল স্থির হয়ে বসে থাকে অসামান্য
আয়ুর হ্রদ। তার স্নানের কৌশল হতে পারে
যে কোনো অভিজ্ঞ নর্তকের। হয়তো অদূরের
বাড়িতে তার মঞ্চায়ন হবে কোনো একদিন
লুণ্ঠিত হবে দলত্যাগী হরিণ শাবকের মতো
অরণ্যজাদুতে বিছিয়ে দিয়ে রক্ত আর লবণ।
অগ্নিকুমারী
অভিনিবেশকে রাঙা করি— আপনাকে দেখে প্রাক সন্ধ্যায়
বিকেলের ঘুম থেকে উঠে আসা লাবণ্যটিলা, যেখানে বয়স
নিজস্ব আচরণে অবাক বনসাই। যেন বর্ষাযাপিত পাতাদের
বিবরণ। বুঝি তাই এত সমুদ্রঝড় বুকে বুকে— ওঁৎপাতা
লক্ষ্মীটেরাদের মতো উদ্দেশ্য আড়াল করে দলে দলে যে
যার পরিবেদনার কাছে চেয়ে নেয় ক্ষমা।
এভাবেই রাত্রি আসে, নগরে নগরে অনন্ত স্তব্ধতার নিচে
শুয়ে থাকে অগ্নিস্থিতি— এ প্রতিবেদন ভূগোল বিস্তৃত আজ
হিম অঞ্চল থেকে উড়ে আসা পাখিদের কম্পমান ডানা
দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। আপনাকে কেন্দ্র করে
ধুলোদল হাওয়াদের বাগানবাড়ি থেকে চুরি করেছিল
মর্মের সন্তরণ! বোঝেনি— শীতনিদ্রা এবারও বিফলে যাবে
প্রতিস্বর তাই ফেরি করে উদ্ধারগীত। কোমল অনুষঙ্গের
গোপন সাক্ষী হয়ে গতকাল যা আপনার পায়ের
নিচে ঘাসের মতো থেঁতলে গিয়ে শহীদ হয়েছে।
প্রতিকাল
নীরবতাকে মদের মতো পান করি
ভেতর থেকে ভারী গর্জন ভেসে আসে
তবে কি প্রতিটি মানুষ নিজেরই অজান্তে
ভেতরে বহন করে সমুদ্র?
প্রতিটি উড়ালের পর যে অবসাদ পড়ে
থাকে ভূমিতে— সূর্যঘুড়ির দিকে তাকিয়ে
কতকাল পড়া যায় আয়ুর প্রণালী
অথচ দৃশ্যের ওপারে ক্রমেই উদ্বেলিত
উন্মাদের ছুরি— যতদূর দৃষ্টি যায়
ততদূর। পুরনো দেয়ালে ফাটলের ভেতর
নিঃসঙ্গ শ্যাওলার পাশে, ক্ষয়ের আবর্ত
নিয়ে নীল-চাষীদের।
কুরুক্ষেত্রকে রঙিন করেছে ইতিহাসের
তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসা ঘোড়াদের
ক্লান্তির সংবেদ। আর একটু এগিয়ে
রক্তদাগের উপর ফুটে আছে ফুল-জগৎভ্রম
অবিরাম খুরের বাদ্য আর গন্ধবিকারে
মহাশূন্যে অন্ধকার জাগে, বাতাসে আগুন।
বাংলাদেশ সময় : ১৫০০ ঘণ্টা, ০৪ মার্চ ২০১৩
দ্য-টিকে