 |
‘‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’’ ধ্বনিতে আজ ৯ জিলহজ মুখরিত আরাফাত ময়দান। পৃথিবীর নানা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সমবেত হয়েছেন হজ্জের উদ্দেশে। আজ আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রধান মুফতি শায়খ আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ আল শায়খ।
খুতবায় তিনি বর্তমান বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতে মুসলমানদের আরও সচেতন হতে এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে আরও সুগভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সমবেত হাজিদের উদ্দেশে ইসলাম এবং মুসলমানদের সার্বিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ ভাষণে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে তিনি তার জন্য প্রয়োজনীয় সরল পথ ও তার সঙ্গে মহান স্রষ্টার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আল্লাহ পাক ইসলামকে আমাদের ধর্ম হিসেবে মনোনীত করেছেন। শুধু আমরা নই, আমাদের পরিবার এবং আশপাশের সবার প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব তা আদায়ে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। কারণ, আমরা সবাই ভাই ভাই। ঐক্য আমাদের শক্তি। শাসক এবং শোষিত- সবার অধিকার যেন আদায় হয়, সেটিই আমাদের শান্তি ও সফলতার পথ। তাকওয়া আমাদের প্রধান অবলম্বন। আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার প্রধান পথ।
বিশ্বজুড়ে চলমান যে অশান্তি ও অস্থিরতা ইসলাম এবং ইসলামের সঠিক বাস্তবায়নই এর একমাত্র সমাধান। সাংস্কৃতিক ও নৈতিক সব অবক্ষয় রোধে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আদায় করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে শত্র“দের পক্ষ থেকে ইসলামের বিপক্ষে যে চক্রান্ত চলছে, এর মোকাবেলায় আমাদেরও শক্তিশালী প্রচারমাধ্যম গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের সত্য বাণী ও প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বিশ্বমুসলিমকে সম্বোধন করে বলেন, যে যেখানেই থাকি না কেন. নিজেদের সুমহান ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। মুসলমান হিসেবে নিজেদের সম্মানিত মনে করতে হবে। আল্লাহ পাক যাদের এবার হজের তওফিক দান করেছেন, তাদের উচিত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও শোকরিয়া প্রকাশ করা।
তিনি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনারা এ পবিত্র ভূমির শান্তি ও সৌহার্দ্য এবং এর পেছনের মৌলিক কারণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। ইসলামই যে একমাত্র শান্তির সুব্যবস্থার সন্ধান দিতে পারে, এ পবিত্র ভূমির স্থিতিশীল শান্তিময় পরিবেশ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
`` আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার
লাইলাহা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার
ওয়াল্লাহিল হামদ``
পাঠক, ৯ জিলহজ, ১০ জিলহজ ও ১১ জিলহজ যতোদূর সম্ভব উপরিল্লিখিত তাকবির পাঠ করা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর কর্তব্য।
লেখক: কাতার করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা