 |
| ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বাংলাদেশে সৃষ্টি হওয়া গণজাগরণের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে চলছে বাঙালীদের মিছিল-সমাবেশ।
রোববার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক সংহতি সমাবেশ থেকে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরন মঞ্চের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা হয়।
ওই সমাবেশে ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার, ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার, গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার, তুই রাজাকারসহ জ্বালাময়ী বিভিন্ন শ্লোগানে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান প্রবাসীরা।
ফ্রান্সে সংহতি সমাবেশের আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে ট্রকাডেরোর মানবাধিকার চত্বরে এ সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন।
সমাবেশের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। এরপর শাহবাগ আন্দোলনের অগ্রনায়ক ও ব্লাগার রাজীব আহমেদকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানানো হয়। এছাড়া অবিলম্বে রাজীব হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আটক করে বিচারের সম্মুখিন করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে নিহত ব্লগার রাজীবের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া সমাবেশস্থলে শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশবাসী আজ এক হয়েছে। এসব ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হলেই তারা ঘরে ফিরবে। শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলেই হবেনা, জামায়াতের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্রান্সে জাতীয় কবিতা পরিষদের সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ, উদীচীর সাধারন সম্পাদক আহমেদ আলী দুলাল, সোনার বাংলার জুয়েল ও দ্বীপ, স্বরলিপির এমদাদুল হক স্বপন, ব্লগার রনি ও এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি দেবেশ বড়ুয়া এ সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি- ফ্রান্স শাখা, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ ফ্রান্সের ৫০টি`র ও বেশী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী সম্বলিত রঙ্গীন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন সহ সমাবেশে যোগ দেয়।
উল্লেখ্য চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে ৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগাররা। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারী লাখো জনতার মহাসমুদ্রের কেন্দ্রবিন্দু শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নবজাগরন মঞ্চ থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১১৪৩ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
টিসি