 |
| ছবি: নাজমুল হাসান / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: জামায়াত-শিবিরের ডাকা বৃহস্পতিবারের হরতালে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই রাজধানীজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রাস্তায় কোনো পিকেটিং হতে দেখলে তা প্রতিহত করা হবে।
রাজধানীর ন্যায় সারাদেশেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পর্শকাতর বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য ঠেকাতে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-শিবিরের পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বুধবার জামায়াতের মিছিল ঠেকাতে পুলিশের রণ প্রস্তুতিতে আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি একেএম শহিদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, “হরতালের নামে নৈরাজ্য ঠেকাতে পুলিশকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর কিংবা পিকেটিংয়ের চেষ্টা করলে পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সবকিছু করবে।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বাংলানিউজকে বলেন, “নিরাপত্তার কোনো অভাব হবে না। রাজধানীতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।”
তিনি বলেন, “বুধবার রাজধানীতে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বৃহস্পতিবার হরতালে এর চেয়ে আরো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিলের দাবিতে জামায়াত বুধবার রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় তারা মিছিল বা সমাবেশ করতে পারেনি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তাভাবে মিছিল সমাবেশ করার চেষ্টা করে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে হরতালের ডাক দেয় তারা।
রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রামে অর্ধদিবস আর অন্যান্য স্থানে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের কথা রয়েছে। জামায়াতের হরতালে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমর্থন দিয়েছে।
এদিকে, হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মালিবাগ, মগবাজার, পল্টন, মতিঝিল, দৈনিক বাংলামোড়, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, খিলক্ষেত, গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, সাতরাস্তা, তেজগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, কাজীপাড়া, হাইকোর্ট মোড়, রামপুরা, বাড্ডা, ফার্মগেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পুলিশের সবচেয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
পুলিশের পাশাপাশি ৠাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মনিটরিং করবে।
এদিকে, হরতালকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জামায়াত-শিবিরের পুলিশের ওপর মারমুখী আচরণের কারণে এ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০১২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৩
আইএ/ সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর