 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সিইউএফএলে তৎকালীন সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খানের জেরা শেষ হয়েছে। এরপর আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেছেন।
জেরার এক পর্যায়ে মবিন হোসেন খান বলেন, `দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার কারণে ২০০৭ সালের ২১ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে জোট সরকারের আমলেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সার্জেন্ট হেলাল ও সার্জেন্ট আলাউদ্দিনকে যেভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় সেভাবে আমাকেও অন্য ঘটনায় জড়িয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।’
সোমবার চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে দুই আসামির আইনজীবী মবিন হোসেন খানকে দিনভর জেরা করেন।
এরা হলেন, সিইউএফএলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহসীন উদ্দিন তালুকদারের আইনজীবী ফজলুল করিম ভুঁইয়া এবং তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হকের আইনজীবী মাহমুদুর রহমান।
আইনজীবী মাহমুদুর রহমানের জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে মবিন হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র মামলার কারণে সিইউএফএলের বেগিং গেটে একটি গাড়ি ঢোকার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরির বিষয়ে মামলা করেছি। মামলা চলছে। ২০০৭ সালে তৎকালীন শিল্প সচিব নুরুল আমিনের আদেশে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।’
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে মবিন হোসেন খান বলেছিলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র আনার বিষয়টি সিইউএফএল তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহসীন উদ্দিন তালুকদার ও মহাব্যবস্থাপক কে এম এনামুল হক আগে থেকেই জানতেন। আর অস্ত্র নামানোর ঘটনা তদারক করতে সেই রাতে সিইউএফএলের বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব নুরুল আমিন।
জেরায় আইনজীবী প্রশ্ন করেন ‘ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জেটিঘাটের দোকানপাট ভেঙ্গে দেওয়া হয়?’ জবাবে মবিন হোসেন বলেন, ‘ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তবে কমিটির সুপারিশে কি না জানি না।’
প্রসঙ্গত এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় ২০০৬ সালের ২৭ ও ২৮ জুন আদালতে প্রথম দফায় সাক্ষ্য দেন মবিন হোসেন খান। এরপর তিনি ২০০৯ সালের ১২ মার্চ তৎকালীন মহানগর হাকিম ওসমান গণির কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামিদের মধ্যে আদালতে ছিলেন, জামায়াত নেতা ও বিএনপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এনামুল হক, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও ট্রলারমালিক দীন মোহাম্মদ।
এ ছাড়া সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত দুআসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন বর্তমানে পলাতক আছেন।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্নেল (অব) একেএম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক সিএমপি কমিশনার এস এম সাব্বির আলী, সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন, সার্জেন্ট আলাউদ্দিন, গ্রীণওয়েজ ট্রান্সপোর্টের মালিক হাবিবুর রহমান, ম্যানেজার তসলিম মল্লিক, ট্রাক ভাড়া করার মধ্যস্থতাকারী শেখ আহমদ, হাবিলদার গোলাম রসুল, কর্ণফুলী থানার সাবেক ওসি আহাদুর রহমান এবং সিইউএফএল`র সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খানসহ ২০ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১২
আরডিজি/টিসি