 |
| ছবি: মোশাররফ/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চলমান আন্দোলনের ৯ম দিন বুধবার আগুন ঝরা গানের কর্মসূচিকে সামনে রেখে শাহবাগে ঢল নেমেছে দেশপ্রেমিক জনতার। বসন্ত শুরুর দিন হওয়ায় আরো যেন অন্যরকম আবহ পেয়েছে প্রতিবাদী জনতার সমাবেশ।
ফাগুনের নিরুত্তাপ আগুনকেই সবাই রাজাকার নিধনের উত্তপ্ত গোলায় পরিণত করতে চায় যেন।
বেলা তিনটায় পূর্বঘোষিত আগুন ঝরা গানের কর্মসূচিকে সামনে রেখে বেলা ২টার ভেতরেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা।
শাহবাগের গণজাগরণের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারুকলা, টিএসসি, বইমেলা হয়ে দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিশুপার্ক, রমনা, হোটেল রূপসী বাংলা, কাটাবন সবদিকে, সবখানে।
বসন্তের ঐতিহ্য মেনে অনেক নারীর পরনে বাসন্তী রঙা শাড়ি, কারো মাথায় ফুল। আর অনেক পুরুষের পরনে বাহারী পাঞ্জাবি।
ভিড় যত বাড়ছে ততোই যেন বর্ণিল এক মেলায় পরিণত হচ্ছে শাহবাগ।
আসছে খণ্ড খণ্ড মিছিল। আসছে পাড়ার ছেলের দল, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী। প্রিয়জনের হাত ধরে, পরিবার-পরিজন সঙ্গেও আসছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
ফাগুনের রঙিন আগুনে যেন আরো জোর পেয়েছে ফাঁসির দাবি।
ধানমন্ডির সুপ্রিয়া, বুধবার দুপুরে আন্দোলস্থলে এসেছেন বাসন্তী সাজে। তার পরনে হলুদ শাড়ি, হাতে হলুদ চুড়ি। মাথায় ফুলের চাকতি।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘‘আমি যদিও এখানে বাসন্তী সাজে এসেছি, কিন্তু আমার মনে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দেওয়ার দহন রয়ে গেছে। ফাল্গুনের এই প্রথম দিনে সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাবো বলে অঙ্গীকার করছি।’’
ধানমন্ডি জুনিয়র ল্যাবরেটরি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র নির্জন মাহবুব বলেন, “আমি প্রতি বছর পহেলা ফাল্গুনে বাবা-মার সঙ্গে বেড়াতে আসি। কিন্তু এবার এসেছি রাজাকারের ফাঁসির দাবি নিয়ে। এ কারণে বাসন্তী পাঞ্জাবিও পরিনি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৪ ঘন্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৩
এসকেএস/সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম, নিউজরুম এডিটর/জেডএম