৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বৃহস্পতিবার মে ২৩, ২০১৩ ৬:১২ এএম BDST banglanew24
11 Nov 2012   02:51:38 PM   Sunday BdST
E-mail this

প্রধানমন্ত্রীকে অবৈধ বললেন বিরোধী দলনেতা


মান্নান মারুফ ও মো. মহিউদ্দিন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
প্রধানমন্ত্রীকে অবৈধ বললেন বিরোধী দলনেতা
ছবি : দেলোয়ার হোসেন বাদল / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (কক্সবাজার) থেকে: শেখ হাসিনাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “এই প্রধানমন্ত্রী অবৈধ। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন শপথ নিয়েছিলেন তখন তিনি ছিলেন প্যারোলে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা যদি স্বাধীন থাকতো তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারতেন না।”

উগ্রপন্থিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ জনপদ ও স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজার সফরের তৃতীয় ও শেষ দিন রোববার বিকেলে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি সমাবেশে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে খালেদা জিয়া বলেন, “এখনো সময় আছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় নির্বাচন হবে ঠিকই, তবে আওয়ামী লীগের অধীনে নয়। ওই নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে মরিষ্যা দিপাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন বিএনপি প্রধান। তিনি এ সময় বিহারে সমবেত ভিক্ষু ও ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমাবেদনা জানান ও শান্তনা দেন তিনি।

এ সময় ভিক্ষুরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের বিহার আক্রমণ ও তাণ্ডবের বর্ণনা দেন। তারা তাদের অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি প্রধানের কাছে।

তিনি তাদের অসহায়ত্বের কথা শুনে তাদের পাশে থাকার প্রুতিশ্রুতি দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, “এ সরকারকে বলবো ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ি ও বিহার পুন:নির্মাণ করে দিতে এবং বৌদ্ধদের পূর্ণনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।”
 
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় যারা জড়িত এই সরকার তাদের বিচার না করলেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের বিচার করা হবে। আপনাদের বৌদ্ধ বিহার নতুন করে নির্মাণ করে দেব।”

“তারা নাকি ধর্মনিরপেক্ষ” বলে কটাক্ষ করে সম্প্রীতি সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, “এ সরকার ক্ষমতায় এলেই হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালায়, বাড়িঘর, মন্দিরের জায়গা দখল করে। মুসলমানদের ওপরও নির্যাতন করে।”

তিনি বলেন, “এমন কোনো ধর্মের লোক নেই যারা নিরাপদে আছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা নির্যাতিত। আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা এই কক্সবাজারে যা ঘটিয়েছে তা নিন্দনীয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিয়েছে। বৌদ্ধরা নিরীহ, তারা কারো সাতে-পাঁচে নেই। তারা শান্তিতে জীবন যাপন করে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “হঠাৎ করে এখানে কিছু হয়নি। যা হয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।”

সরকাররকে অপদার্থ-অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে, কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। নিরাপদ জীবন যাপন করতে হলে এ সরকারকে বিদায় দিতে হবে।”

বিএনপি প্রধান বলেন, “আমরা ধর্মনিরপেক্ষ নই, ধর্মীয়মূল্যবোধের নীতিতে বিশ্বাস করি। যার যার ধর্ম নির্ভয়ে নির্দ্বিধায় পালন করবো।”

ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মসজিদে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর আক্রমণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,  “মুসলমানরাও শান্তিতে নেই। তারাও আর নিরাপদ নয়। তাদের ওপর নির্যাতন করছে সরকার। মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের লাঠিপেটা করা হচ্ছে। কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে মুসলমানদের অপমান করছে এই আওয়ামী লীগ। তাদের ধর্ম-নিরপেক্ষতার মুখোশ খসে পড়েছে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে জনগণের রক্ত, সেই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে কল্যাণ হতে পারে না। এদের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।”

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই ছেলেরা এ সরকার যে তোমাদের বলেছিল চাকরি দেবে, কিন্তু দেয়নি। ১০ টাকা কেজিতে চাল দেবে বলেছিল, দেয়নি। বিনামূল্যে সার দেবে বলেছিল, দেয়নি। আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতায় আসে।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নিজের ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করুন। যে খুনিকে নিয়ে সফরে বেরিয়েছেন তাকে ধরুন।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী-সাথীরা চোর আর খুনি।  এই সরকার লুটেরা, বিশ্বচোর। সারা দেশে এখন একই সুর- আওয়ামী লীগ হলো বিশ্বচোর।”
 
খালেদা জিয়া বলেন, “গত চার বছর আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম, লুটপাট করেছে সেসবের প্রমাণ মানুষের হাতে আছে। এ সরকার শেয়ার মার্কেট লুট করে দেড় কোটি মানুষকে রাস্তায় বসিয়েছে। হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মাসেতুর টাকা লুটপাট করে বিদেশে নিয়ে গেছে। এরা পারে শুধু চুরি করতে, লুট করতে, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে।”

আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। উন্নয়ন, উৎপাদন অগ্রগতি হবে। কর্মসংস্থান হবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মূল্য পাবে। ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষককে বাঁচানো হবে। কৃষি উপকরণের দাম কমানো হবে। এই দেশ আমাদের। আমরা এখানে থাকবো। তবে মাথা নত করে নয়, পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। ঘনবসতিপূর্ণ ছোট দেশ হলেও পৃথিবীর উচ্চ সম্মানে থাকার অধিকার আমাদের আছে, আর এটা পারে কেবল বিএনপি।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ক´বাজার জেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, উখিয়া থানা বিএনপির সভাপতি কাজী রফিকউদ্দিন প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১১, ২০১২
এমএম/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

রাজনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান