 |
| ছবি: কাশেম হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ৮ বাংলাদেশিকে উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকার ও মেরিটাইম পাইরেসি হিউম্যানিটেরিয়ান প্রোগ্রাম (এমপিএইচআরপি) কাজ করছে।
রাজধানীর শাহ মেরিন অ্যান্ড বিজনেস ইনস্টিটিউটে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন এমপিএইচআরপি’র প্রকল্প পরিচালক রয় পল।
জলদস্যু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সোমালিয়ায় অপহৃতদের উদ্ধার নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে এমপিএইচআরপি’র ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত সোমবার ঢাকায় আসে। প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবার ফিরে যাবে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হাতে আটক জাহাজগুলোর নাবিকদের উদ্ধার এবং সেসব নাবিকদের পরিবারকে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক সহযোগিতা দেবার জন্য কাজ করে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এমভি আলবেডো নামের মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ আটক আছে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে। ওই জাহাজে ৭ বাংলাদেশি নাবিক বন্দী জীবনযাপন করছেন। এছাড়া সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হাতে প্রায় ৯ মাস ধরে আটক আছে এমভি রয়্যাল গ্রেস নামের আরো একটি জাহাজ। সেই জাহাজেও বন্দী আছেন আরো এক বাংলাদেশি নাবিক।
বুধবার রয় পল বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘প্রায় ২ বছর তিন মাস আগে মালয়েশিয়ান একটি জাহাজ থেকে ৮ জন বাংলাদেশিকে অপহরণ করে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। এ ধরনের বেশিরভাগ ঘটনায় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরে আর দায় স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু অনেক দরিদ্র দেশই সোমালিয়ানদের বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে জলদস্যুদের চরম অত্যাচারের শিকার হতে হয় ভিকটিমদের। তাদের উদ্ধার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা একত্রে কাজ করছি।’’
জলদস্যুদের কবল থেকে অপহৃতদের উদ্ধারে দায় নিতে আইনগতভাবে কিভাবে মালয়শিয়ান জাহাজ কোম্পানিকে চাপ দেওয়া যায় সে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে বলেও জানান এমপিএইচআরপি’র প্রকল্প পরিচালক।
তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান প্রসংশনীয় বলে উল্লেখ করেছেন রয় পল।
তিনি বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সোমালিয়ায় আটককৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। কথা বলেছি। আমরা এসব পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দিতে রাজি। তাছাড়া ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধ না হয় বা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’
তবে এসব অপহরণের বিষয়ে শিপিং কোম্পানিগুলো যারা পরিচালনা করছেন, তাদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলেও মনে করছে এমপিএইচআরপি। দেশীয় কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই অপহৃতদের উদ্ধারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করছেন সংস্থাটির প্রকল্প পরিচালক।
বাংলাদেশের নৌ-বাহিনীর উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ দস্যুতা কমে আসছে বলে মন্তব্য করেন এমপিএইচআরপি’র পরিচালক। দূরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের জন্য বা জড়িত হতে সোমালিয়ানরা উৎসাহিত হয় বলে মনে করছেন রয় পাওয়েল।
তিনি বলেন, টাকার লোভে সোমালিয়ার জলদস্যুরা এ ধরনের অপহরণ করে থাকে। তাছাড়া অপরাধের জন্য সোমালিয়াকে স্বর্গরাজ্য বলে মনে করে অপরাধীরা। কারণ, সোমালিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক।
তবে তিনি বাংলাদেশে এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগণকে এসব অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে আরো সচেতন করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে। তিনি বলেন, ‘‘অসচেতনতার কারণে জাহাজের কর্মকর্তারা অনেক সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে না। তাই এখনই সরকারকে জলদস্যুদের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।’’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মেরিটাইম পাইরেসি হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্স প্রোগ্রামের (এমপিএইচআরপি) তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি সোমবার বাংলাদেশ সফরে আসে। এমপিআইচআরপি’র প্রতিনিধিরা এমভি আলবেডো ও এমভি রয়্যাল গ্রেস জাহাজে আটক মোট ৮ জন নাবিকের পরিবার এবং এমভি জাহান মনি জাহাজের নাবিক ও তাদের পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমুদ্রে জলদস্যুতা’ শীর্ষক দু’টি সেমিনারে অংশ নেন। সংস্থার প্রকল্প পরিচালক রয় পলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন রিজিওনাল ডিরেক্টর চিরাগ বাহ্রি এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন সি-ফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ারের ভাইস চেয়ারপারসন অ্যাগনেস এপিনিয়া ট্যাজিট।
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে সোমবার প্রথম সেমিনার এবং ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) ভবনে মঙ্গলবার দ্বিতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
২০১০/১১ সালে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে আটক ও পরে উদ্ধার পাওয়া এমভি জাহান মনির মালিকানা সংস্থা ব্রেভ রয়্যাল শিপ ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার অভিজ্ঞতা সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১১৫৫ ঘণ্টা, মার্চ ০৭, ২০১৩
ইউএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর