 |
ঢাকা: রাজধানীর ভাটারা থানাধীন জোয়ার সাহারা এলাকায় প্রাইভেট কার চাপায় মিতু (১৭) নামের এক কলেজছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রীকে প্রাইভেটকারটি চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মিতু দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর হত্যার বিষয়টি পুলিশ এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোস করেছে। নিহত ছাত্রীর লাশ ময়না তদন্ত পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী এই হত্যার বিচার চান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে জোয়ার সাহারা এলাকার রফিকুল ইসলামের কলেজপড়ুয়া মেয়ে মিতু ও তার এক বান্ধবী মিলে অপর আর এক বান্ধবীর কাছে কোচিংয়ে যাওয়ার খবর দিতে যাচ্ছিল। এ সময় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেটের একটু সামনে সিরাজ নামের এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে গাড়ি বের করার সময় মিতুকে সামনে থেকে চাপা দেয়। এতে সে ও তার বান্ধবী গুরুতর আহত হয়।
মিতুর অবস্থা অবনতি হলে বিকেলের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যায়। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীর পা ভেঙে যায়। সে বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। নিহত মিতু কালাচাঁদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
এদিকে অভিযোগে জানা যায়, মিতুর মৃত্যুর পরপরই শুরু হয় ভাটারা থানা পুলিশের খেলা। দুর্ঘটনা ঘটানো ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম ওসিকে দিয়ে বিষটি ম্যানেজের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম ওসিকে এক লাখ টাকাও দেয়। এরপর ওসি ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা না করায়ে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়েই লাশ দাফন করার ব্যবস্থা করে।
তবে ওসি ওই পরিবারের কাছ থেকে এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ নেই বলে একটি লিখিত বক্তব্যও নিয়ে রাখে।
এদিকে স্থানীয় লোকজন মিতুর মৃত্যুর পর ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন বা থানায় মামলা না করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, মিতু দুর্ঘটনায় মারা যাননি। তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকারীর অবশ্যই বিচার হওয়া উচিৎ।
সন্ধ্যায় সরেজমিন ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, পুলিশের একটি গাড়ি। সেখানে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক বাবুল এবং তিন জন কনস্টেবল রয়েছেন। বাবুল ওই পরিবারের লোকজনের কাছে আর কনেস্টবলরা রাস্তায় গাড়িতে বসা ছিল।
পুলিশি পাহারায় নিহত মিতুর দাফনের কাজ চলছিল। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে পরিবারের এক ব্যক্তি কোনো কিছু তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আমরা সমাধান করে নিয়েছি, আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “পরিবার মামলা করেনি তাই লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গাড়ির চাপায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
আইএ/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর