 |
| ছবি: উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে ব্যবসায়ী সমাজের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি জানিয়েছে শিল্প-বণিক সমন্বয় পর্ষদ।
শনিবার চট্টগ্রাম ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি উত্থাপন করেন পর্ষদের আহ্বায়ক ও চেম্বারের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এসএম নুরুল হক।
দাবিগুলো হচ্ছে চেম্বারের ভোটার তালিকায় ভুয়া কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিন) ১ হাজার ৭০০ ভোটারকে বাদ দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির দায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, ডিটিও নির্দেশ অনুযায়ী বিকল্প নমিনি বা প্রক্সি ভোটের বিধান বাতিল করে ‘নির্বাচন বাণিজ্যে’ জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ও পার্টনারশিপ কোম্পানির সদস্য বোর্ড কার্যবিবরণীর মাধ্যমে ভোটার করা, ভোটার আইডি কার্ড চালু করা, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ পরিপন্থী সংবিধি সংশোধন এবং ভোটারদের ট্রেড লাইসেন্স যাছাই-বাছাই করা।
সংবাদ সম্মেলনে শিগগির চেম্বারের বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করে ৬ দফা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক এসএম নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ১ হাজার ৭০টি টিন সার্টিফিকেট নকল বলে শনাক্ত করেছে। এরপর চিঠি দিয়ে চেম্বার সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে। দুঃখের বিষয় চেম্বার কর্তৃপক্ষ ও চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড সুকৌশলে টিও রুলস ও এনবিআর’র চিঠি পাশ কাটিয়ে কোটারি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ভুয়া ভোটার চিহ্নিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চেম্বারের প্রায় ৭ হাজার ভোটারের তালিকার মধ্যে এনবিআর ১ হাজার ৭০ জন ভোটারের টিন ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ একটি গ্রুপ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও কলাকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে অফিসের পিয়ন, দারোয়ান, ড্রাইভারকে ভুয়া ভোটার করেছে। এসব ভুয়া ভোটারের বিকল্প ভোটার হিসেবে ভোট দেয় বিশেষ গ্রুপটি। এভাবে তারা চেম্বারের মতো মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি চরমভাবে কলুষিত করছে।’
তিনি ২০১৩-১৪ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১২ পরিচালকের পদেও নতুন করে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
চেম্বারের সাবেক পরিচালকদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, সাহাবউদ্দিন আহমেদ, মাঈন উদ্দিন, পরিচালক জাফর উল্লাহ খান, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মুছা, মা ও শিশু হাসপাতালের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, নূর উদ্দিন, আবু হায়দার চৌধুরী আমজাদ, হেলাল উদ্দিন, খাতুনগঞ্জ আমির মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম আজাদ, বিকডার পরিচালক ওমর ফারুক সবুজ, সেন্ট্রাল প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘চেম্বার নির্বাচনে যাতে প্রতিবার একই সমস্যায় ভুগতে না হয় সে লক্ষ্যে অন্যায়-অনিয়ম প্রতিরোধে শক্তভাবে কাজ করছি আমরা। ভুয়া ভোটার দিয়ে যাতে চেম্বারের মতো মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নির্বাচিত না হয় সে ব্যাপারে ব্যবসায়ী সমাজ ঐক্যবদ্ধ।’
চট্টগ্রাম শিল্প-বণিক সমন্বয় পর্ষদের আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য শুধু চেম্বার নির্বাচন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আহ্বায়ক জানান, ‘চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় এ পর্ষদ কাজ করে যাবে।’
উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও নানামুখী আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (টিও-০১ শাখা) নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২২ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ৯০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই চিঠিতে বিকল্প নমিনি বা প্রক্সি ভোটের বিধানকে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪’র পরিপন্থী উল্লেখ করে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বানের মধ্য দিয়ে বিধি সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৪০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৩
এআরএম/টিসি