 |
| ছবি : শোয়েব মিথুন / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
খুলনা: সিলেট রয়্যালসের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আগের দিন বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট দল বলে কিছু নেই। প্রত্যেক প্রতিপক্ষই কঠিন। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের পারফরমেন্সের একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের দিনে ভালো খেলছে, সেজন্যই জিতছে। সিলেট খুব বেশি ভালো না খেললেও ম্যাচ জেতার মতো পারফরমেন্স করেছে।
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস: ১৫২/৮ (২০ ওভার)
সিলেট রয়্যালস: ১৫৭/৩ (১৮.৪ ওভার)
ফল: সিলেট রয়্যালস ৭ উইকেটে জয়ী (টানা চতুর্থ জয়)
সিলেটের কোচ খেলার আগের দিন বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন সিলেটই থামাতে যাচ্ছে গ্ল্যাডিয়েটরসকে। মাঠের পারফরমেন্সেই তার প্রমাণ। উড়তে থাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে মাটিতে নামালো সিলেট। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন তারাই। টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দলও তারা।
সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, এনামুল হক জুনিয়র এবং বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া গ্ল্যাডিয়েটরসের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৭৫ রানের অনিন্দ ইনিংসে খেলে দলকে খুশি উপহারই দিয়েছেন অধিনায়ক। যদিও মমিনুল হক এবং মুশফিকের ৭৯ রানের জুটিতে ইনিংসের ভীত পেয়েছে সিলেট। সাকলাইন সজিবের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ হয়েছেন মমিনুল। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩৫ বলে ৩৭ রান।
মুশফিকের সঙ্গে অপরাজিত থাকলেন নাজমুল হোসেন মিলেন। মুশফিক ৭৫ রান করেছেন ৫০ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছয় দিয়ে। মিলন ১৭ বলে তোলেন ২৫ রান। একটি চার ও ২টি ছয়ের মারও ছিল তার ইনিংসে। তৃতীয় এবং চতুর্থ উইকেটে জুটি হলেও ওপেনিং ভালো হয়নি সিলেটের। দারুণ ফিল্ডিং করলেও ব্যাটিংয়ে হাত খোলেনি হ্যামিলটন মাসাকাদজার। তিনি এক আর পল স্টারলিং ১৮ রানে আউট হয়েছেন।
মাশরাফি বিন মুর্তজা টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করেছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। বড় বড় ইনিংস গড়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পাওয়া গ্ল্যাডিয়েটরস সেভাবেই এগোতে চাচ্ছিলো। কিন্তু তাদেরকে পরিকল্পনা মতো খেলতে দেয়নি সিলেট।
সিলেটের আফগান অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীর খুব খরুচে হাত। ২টি উইকেট নিতে ৪ ওভারে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসে তিনি দিয়েছেন ৪০ রান। তার ওভার থেকে ১০ রান করে তুলেছে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা। এলটন চিগুম্বুরা তো আরও উদার, ২ ওভারে দিলেন ৩১ রান। ওভারে ১৫.৫০ রান দিয়ে পেলেন একটি উইকেট। এই দুই বোলারের জন্যই গ্ল্যাডিয়েটস চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছে। তা না হলে ১৩০ রানে আটকে যেত।
ডার্ক ন্যানেস, সোহাগ গাজী এবং মমিনুল হক খুবই ভালো বোলিং করেছেন। মেলবোর্ন পেসার ন্যানেস ৪ ওভারে ২৭ রানে ফিরিয়েছেন লুক রাইট এবং মাশরাফি বিন মুর্তজার মতো ব্যাটসমানকে। সোহাগ ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ওয়াইজ শাহ’র উইকেট। আর মমিনুল ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে শিকার করেন আশাফুলকে।
লুক রাইট ৫ রানে, মোহাম্মদ আশরাফুল ৩৮, এনামুল হক ৩০, ওয়াইজ শাহ ১০ ও জশুয়া কম ১৪, সাকিব আল হাসান ৭, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭ ও থমাস ৬ রানে আউট হন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
এসএ