 |
চট্টগ্রাম: জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। হরতালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বেশকিছু সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
এদিকে হরতালে ১৮ দলের যৌথ কর্মসূচীতে যোগ দেয়ার পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিংয়ের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত ইসলামী। জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা থাকার তথ্যও আছে পুলিশের কাছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরীর যে কোন স্থানে ঝটিকা মিছিল, পিকেটিং কিংবা আতংক সৃষ্টির যে কোন চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে পুলিশ। তবে দলীয় কার্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় সীমিত আকারে মিছিল-সমাবেশে পুলিশ কোন বাধা দেবেনা।
এছাড়া বিএনপি এককভাবে কোন কর্মসূচী পালন করলে পুলিশ যদি তাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কোন আলামত দেখতে না পায়, তাতেও কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকবে পুলিশ। এমনকি জামায়াত ১৮ দলের মূল দল বিএনপির সঙ্গে মিশে নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইলে সেটাও কঠোরভাবে দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, `দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল-সমাবেশ করে হরতালকে শান্তিপূর্ণ রাখলে আমরা বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করব। কিন্তু জ্বালানী তেলের জন্য হরতাল ডেকে জামায়াত তাদের নেতাদের মুক্তি দাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সেটা দমন করা হবে।`
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, `প্রত্যেক হরতালের মত পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খল আচরণ করলে সেটা কঠোরভাবে দমন করা হবে।`
নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরতালকে কেন্দ্র করে নগরীতে এক হাজার ৬৯৭ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৬১৮ জন হচ্ছেন এপিবিএন, রিজার্ভ ফোর্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ পুলিশ সদস্য এবং বাকি ৭৯ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ।
রোববার ভোর ৫টা থেকে এসব অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে নগরীর ১২টি থানায় হরতালের দায়িত্ব পালনের জন্য ১০২টি পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে নগর পুলিশ।
এর মধ্যে কোতয়ালী থানায় আছে ১৭টি পয়েণ্ট, বাকলিয়া থানায় ৭টি পয়েন্ট, চান্দগাঁও থানায় ৯টি, পাঁচলাইশ থানায় ১০টি, বায়েজিদ বোস্তামি থানায় ৪টি, হালিশহর থানায় ৮টি, ডবলমুরিং থানায় ১১টি, পাহাড়তলী থানায় ১০টি, বন্দর থানায় ৭টি, পতেঙ্গা থানায় ৫টি এবং কর্ণফুলী থানায় ৫টি পয়েন্টে পিকেট ও মোবাইল ডিউটি করবেন পুলিশ সদস্যরা।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো.মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, `হরতালের ডিউটির জন্য আমাদের সব ফোর্সকে প্রস্তুত করা হয়েছে। নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকতার স্থানে আমাদের ফোর্স মোতায়েন থাকবে।`
নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, হরতালের সমর্থনে তারা নগরীর প্রত্যেক থানা এলাকায় মিছিল করেছে। রোববারও হরতালের সমর্থনে তারা পিকেটিং, মিছিল-সমাবেশ করবেন। এছাড়া দলীয়ভাবে ১৮ দলের কর্মসূচীতেও তারা যোগ দেবেন।
তবে জামায়াত হরতালের সমর্থনে শনিবার বিকেলে কোথাও মিছিল-সমাবেশ করেছেন বলে কোন তাদের কাছে তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচী ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৩
আরডিজি/টিসি