রাজশাহী: রাজশাহীতে মৃত্যুর ২৫ দিন পর কবর থেকে আবদুল করিম মোল্লার লাশ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের দুই ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকালে মহানগরীর রাজপাড়া থানার শাহাজীপাড়া কবরস্থান থেকে আবদুল করিম মোল্লার লাশ ওঠানো হয়।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, মায়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও সম্পত্তির তথ্য গোপন করার জন্য দুই ভাই ও এক ভাবি মিলে আবদুল করিমকে শ্বাসরোধ অথবা বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছে।
হত্যার পর তড়িঘড়ি করে অপর দুই ভাইকে না জানিয়ে লাশ দাফন করা হয়।
অপরদিকে আসামি পক্ষের দাবি, তাদের ফাঁসানোর জন্য বাবা হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ বাদী হায়দার আলীসহ দুই ভাই কখনোই বাবার খোঁজ-খবর রাখতেন না। তারা অন্য স্থানে থাকতেন।
আবদুল করিম মোল্লাকে অভিযুক্ত দুই ছেলে এবং তাদের স্ত্রীরাই দেখাশুনা এবং সব দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পরে ওই দুই ভাইকে ফাঁসাতে তাদের নামে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আসামিপক্ষ অভিযোগ তোলেন।
এরআগে ২৫ জানুয়ারি ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মহানগরীর কাঠালবাড়ীয়া এলাকার আবদুল করিম মোল্লা মারা যান। ওই দিন বিকেলেই তার লাশ দাফন করা হয়।
আবদুল করিম মোল্লার মৃত্যুর দুই দিন পর ২৭ জানুয়ারি হায়দার আলী বাদী হয়ে তার দুই ভাই সইবুর রহমান, আবদুস সাত্তার ও ভাবি সাজেদা খাতুনের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগে রাজশাহীর মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মহানগরীর রাজপাড়া থানাকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরে মঙ্গলবার সকালে আবদুল করিম মোল্লার লাশ কবর থেকে তোলা হয়।
মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার সকালে লাশ উত্তোলনের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত হত্যার বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা যাবে না বলে জানান ওসি রেজাউল ইসলাম।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
এসএস/সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম, নিউজরুম এডিটর, সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর