 |
সময়
এইতো এইভাবে আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আগামীকাল আবারো আসছি বলে
আরেকটি দিন তার হাঁটুর কাপড় জড়াতে জড়াতে চলে গেল
রোজ এভাবেই যায় যায় বুকের ভেতর রবিশস্য নেড়ে
আর আমার নক্ষত্রগুলো টিনের চালে ঝমঝম করে মুখ থুবড়ে পড়ে।
যে পড়তে জানে ফিশারিজ থেকে টুপ করে নৌকোর গলুইয়ে সে উঠে পড়ে
এবং দেখে মাটির জাহাজ সেও জল ফেঁড়ে যেতে যেতে শূন্য হয়ে আসছে।
নীলকুঠি
আমাদের সংসার জোড়াতালি দেয়া। যেনবা মিনিবাসের ফাটা লুকিং গ্লাস
এখানে ওখানে স্কচটেপ লাগিয়ে লাইফ সাপোর্ট নিয়ে বেঁচেবর্তে আছে কোনোমতো
অথবা পুডিং মারা টিনের চাল, ক্রমাগত ঝড়, রৌদ্রতাপ সইতে পাঁজর মেলে বসে থাকে।
কিংবা
নীলচাষের মতো আমাদেরও সংসার
বিভিন্ন এনজিও সমিতির লোকেদের চা জ্বাল করে খাওয়াতে আমাদের হাড়হাড্ডিগুলোই চারকোল বনে গেছে।
নিঃসঙ্গ টিপ
বহুদিন হলো আলেয়ার সাথে মাথা ঢিপেঢিপি হলেও চোখে চোখ রাখা ছাড়া
কোনো কথাই মটরশুঁটির মতন মুখ পিছলে বের হয়নি।
কেননা আমার বাড়ি থেকে নদীর দূরত্ব যতদূর হয় ততোধিক দূর
আজ তোমার আমার মাঝে সাপের মতো লেজ বিছিয়ে রয়েছে
যার পায়ে পাড়া পড়লেই ফণা তুলে ফোঁস ফোঁস করে
চতুষ্পার্শে মুখ থেকে আগুন ছিটাতে থাকে। আরো রক্তবর্ণ হলে
মাথার উপর দিয়ে উঠে যেতে দেখি লোহার ট্রেনকে।
কেউ বলেছিল কি, কেউ বলেনি, শুধু মিতা বলেছিল
রোজ রোজ চুমু খেতে কেন আসো অগ্নিকে!
পাথর ঘষে ভোর
আমার বুকের ভেতর থেকে পাথরগুলো সরাতে নিশ্চয় কোনো
একজন নারীশ্রমিক পথে ঘাটে কাজ করবে।
নম্রভাবে খুব নম্রভাবেই আত্মহনন থেকে ফিরে আসা লাকির মতো কেউ
আমার ভেতরে নড়াচড়া করা দু’খানা পাতার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে
এই শরীরের অন্ধকারগুলো সে-ই এক চুমুকে খেয়ে নিতে পারবে জানি।
গনগনে সমুদ্রের নিম্নাঙ্গ ফুঁড়ে যেদিক দিয়ে ঢুকে পড়ে জীবনের প্রথম শাটি মাছ
সেইদিকে চিত্রের চকলেট হতে ফলের স্যালাইন হয়ে তোমার শরীরে
আমিও ফুঁড়ে যাব। জানি, আমাদের ভবিষ্যৎ চমৎকার এক বৃষ্টির ভেতর
দিয়ে চলে যাবে।
এসব রোম্যান্টিক কথা লিখব না লিখব করেও পেঁয়াজের খোসার মতো একে একে পাঁজর খুলে খাতায় ছড়ালো।
গন্ধবিবৃতি
সুন্দর আজ তার বুকের পশমগুলি জড়ো করে খড়কুটোর মতো জ্বালিয়ে রেখেছে
যেমত আমিও ছুরিতে কেটে লাল দগদগে তরমুজ হয়ে ফালি ফালি আছি
প্লেটে ছড়িয়ে।
মাধবীদের জমি দখলে নিতে যেমত একদল লাঠিয়াল দলবেঁধে
হুংকার ছেড়ে শাঁসাতে শাঁসাতে জায়গা ফাঁকা করে আসে
তেমনি ফাঁকা হয়ে আছে এই ভ্যানিটি ব্যাগের মেঝে।
লালকার্ড
এয়ারগানটা আংকেলের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে
কোনো সিনক্রিয়েট হওয়ার আগেই গলা খাঁকারি দিয়ে যায়
— হাত উঁচিয়ে ঝড়কে ডেকে আনে।
কারা তারা? মরুভূমি ঠেকাতে নিজেদেরই রক্ত নিজেরাই জিঁইয়ে রাখে
আর সচিত্র ক্ষয়ক্ষতি দেখতে স্বয়ংক্রিয় হাতবোমা হয়ে
ওই অসম্ভবের পায়ের কাছে পড়েই বলে— সক্রে আজ যাই যাই!
এরকম অনেক ফিলিস্তিনিদের দেখেছি সকাল দশটার দিকে বিছানা ছেড়ে
পরিখার দিকে চলে যেতে।
হেই চির আবিষ্কারক ভাস্কর-দা গামা কিংবা ঝানু, চটপটে ম্যাকগাইভার
তোমরা কি শিশুপার্কে খেলতে যেয়ে বন্দুকের খোসাগুলিকে
কখনো ব্যাডমিন্টন খেলার কর্ক ভেবে বাড়িতে কুড়ে এনেছিলে?
বাংলাদেশ সময় : ১৬৪৬ ঘণ্টা, ০৫ মার্চ ২০১৩
দ্য-টিকে