 |
| ছবি: শোয়েব মিথুন / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
খুলনা: খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ওয়ানডে অভিজ্ঞতা ষোলো কলায় পরিপূর্ণ হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে বড় জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬০ রানের বিশাল জয় পেয়েছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের ২৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও সোহাগ গাজীর কব্জির কারিশমায় ১৩২ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। এর আগে এনামুল হকের অনবদ্য শতকে ৬ উইকেটে ২৯২ রান তোলে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ: ২৯২/৬ (৫০ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩২ (৩১.১ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ১৬০ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে এনামুলের হাতে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সোহাগের তোপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে লেন্ডল সিমন্সকে ব্যক্তিগত ৯ রানে ফিরিয়ে দেন সোহাগ। কয়েক ওভার বিরতি দিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার শিকার হন ক্রিস গেইল। ২২ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ১৫ রান করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। দলীয় ৬৩ রানে সোহাগের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন মারলন স্যামুয়েলস (১৬)। ব্রাভোর সঙ্গে তার ৩১ রানের জুটিই ছিল ক্যারিবিয় ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
এরপর রাজ্জাকের স্পিন ঘূর্ণিতে কাবু হয়ে একে একে মাঠ ছাড়েন ডোয়াইন স্মিথ, ড্যারেন ব্রাভো ও ডেভন থমাস। স্মিথ ও থমাস রানের খাতা খুলতেই পারেননি, ব্রাভো করেছেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৮ রান। মাত্র ১২ রানে মাহমুদুল্লাহর হাতে বধ হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। কাইরন পোলার্ড প্রতিরোধের চেষ্টা গড়লেও নাঈমের বলে কাবু হন। বোল্ড হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন পোলার্ড। এরপর মমিনুল হকের থ্রোতে রান আউট হন আন্দ্রে রাসেল (৯)। অন্যদিকে সোহাগের তৃতীয় শিকার হন সুনিল নারিন।
নারিনের (১০) ক্যাচটি দুর্দান্ত ভাবে লুফে নেন তামিম। একই সঙ্গে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পায় টাইগাররা।
রাজ্জাক ৫ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে সোহাগ ৭.১ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২১ রানে তিন উইকেট দখল করেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দলীয় ৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ব্যক্তিগত ৫ রানে আন্দ্রে রাসেলের শিকার হন তামিম। অন্যদিকে রবি রামপলের কাছে ৬ রানেই উইকেট জমা দিয়ে সাজঘরে ফেরেন নাঈম। ২১ রানে ২ উইকেট হারালে ওপেনার এনামুল হককে নিয়ে ১৭৪ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়েন মুশফিক। এ জুটি গড়ার পথে দুজনই দেখা পান হাফ সেঞ্চুরির। ১১তম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। ৭৯ রানে রামপলের শিকার তিনি। অন্যদিকে ৪ রান করতেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় নাসির হোসেনকে।
মুশফিকুরের সঙ্গে গড়া প্রথম হাফ সেঞ্চুরিকে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে সফল হন এনামুল। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই অভিষেক সেঞ্চুরি অর্জনের সময় এনামুলের পাশে ছিলেন মমিনুল হক। ১৩৮ বলে ১২টি চারে সেঞ্চুরির দেখা পান এনামুল। তবে ৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে রামপলের শিকার মুমিনুল ও এনামুল। ২৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে মমিনুল করেন ৩১ রান। ১২০ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসে এনামুল বল খেলেছেন ১৪৫টি, চার ১৩টি ও ছয় ২টি।
মাশরাফি বিন মুর্তজা ২ ছয় ও ১ চারে ৬ বলে ১৮ রানে ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ক্যারিবীয় বোলার রামপল একাই নেন ৫ উইকেট।
বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে জয়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে ১৪৬ রানের ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা। এ জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল মুশফিক বাহিনী। বাকি ম্যাচ হবে ঢাকার মিরপুরে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৬ ঘণ্টা, ২ ডিসেম্বর ২০১২
এফএইচএম/সম্পাদনা: আহসান হাবিব সম্রাট, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- eic@banglanews24.com