 |
ঢাকা: ভারতের নয়াদিল্লির ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সাকেত জেলা আদালতে অভিযুক্তদের প্রাথমিক শুনানির পর এ অভিযোগ গঠন করা হয়।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ছবিতে দেখা গেছে, দিল্লি তিহার জেল থেকে একটি নীল রংয়ের ভ্যানে করে অভিযুক্তদের আদালত চত্বরে নামানো হয়। এরপর তাদের তল্লাসি করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা।
আদালতে হাজিরের পর এক আইনজীবী অভিযুক্তদের পক্ষে লড়াই করার কথা বললে হট্টগোল শুরু হয়। কিছুক্ষণের জন্য আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আদালত পুনরায় কার্যক্রম শুরুর আগে ক্যামেরা ট্রায়াল (রুদ্ধদ্বার) শুনানির নির্দেশ দেন।
আদালতের অনুমতি ব্যতিত বিচারপ্রক্রিয়া বিষয়ে কোন কিছু প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
শুনানি প্রথম দিকে উন্মুক্ত আদালত শুরু হয় কিন্তু অভিযুক্তদের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয় আইনজীবীদের মধ্যে। এতে বিচারক নম্রিতা আগারওয়াল শুনানি মূলতবি ঘোষণা করেন এবং রুদ্ধদ্বার শুনানির নির্দেশ দেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মামলাটি বিশেষ আদালতে হস্তান্তর করা হতে পারে। নয়াদিল্লির উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিশ্বেনধর বর্মা বলেন, “তাদের (আসামীদের) আইনজীবী আছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করবে এবং তাদের পক্ষে লড়ার জন্য একজন অ্যামিকাস কিউরি (আইনজীবী) নিয়োগ দেবে আদালত। আসামীদের অভিযোগপত্রের কপি সরবরাহ করবে আদালত।”
তিনি আরও বলেন, “এরপর মামলাটি দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হবে যেহেতে হাকিম আদালত ধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচার করতে পারেন না।”
শুনানির সময় বিবাদীদের ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশ। গত সপ্তাহে এক আসামীর বাড়ির কাছে বোমা রাখার চেষ্টা করার করলে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামীদের ছবি তুলতে দেননি পুলিশ।
৩ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে দিল্লি পুলিশ বাসচালক রাম সিং, তার ভাই মুকেশ, ফল বিক্রেতা পাভান গুপ্তা, শরীরচর্চার প্রশিক্ষক বিনয় শর্মা ও বাসের পরিচ্ছনতাকর্মী অক্ষয় ঠাকুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে আলামত নষ্ট করা ও অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে।
১৯ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত ৫ জনের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তাদের। নয়াদিল্লির তিহার কেন্দ্রীয় জেলে তারা সবাই আটক রয়েছেন।
দুই অভিযুক্ত পাভান গুপ্তা ও বিনয় শর্মা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাসচালক রাম সিং ও তার ভাই মুকেশ মামলায় লড়ার জন্য আইনি সহায়তা চেয়েছেন।
ষষ্ঠ অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় কিশোর আদালতে তার মামলা চলবে। ইতোমধ্যে এ অভিযুক্তের বিদ্যালয়ের প্রধানকে অভিযুক্তের সঠিক বয়স জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লিতে একটি চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী। ধর্ষণের আগে মেয়েটিকে আঘাত করে নরপশুরা। মেয়েটির সঙ্গী বন্ধু বাধা দিতে চাইলেও তাকেও বেদম পেটানো হয়।
ধর্ষণের পর মেয়েটি ও তার বান্ধবীকে রাস্তায় ছুড়ে মারে ধর্ষকরা। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মেয়েটি।
ধর্ষণের এ ঘটনার পর রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আন্দোলন হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৩
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, eic@Banglanews24.com