 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আসার জোয়ার থেমেছে। ফলে বিও (বেনিফিশিয়ারী ওনার্স) হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলার বদলে বেড়েছে বন্ধের হুজুগ।
গত এক বছরে (২০১২) নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭০টি। এর বিপরীতে বন্ধ হয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৯৯টি হিসাব। এর মধ্যে নারীদের হিসাব বন্ধ করার হার পুরুষের তুলনায় বেশি।
তবে বাজার স্বাভাবিক হয়ে এলে আবারও বিও হিসাব খোলার হার বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বাজার চাঙ্গা থাকায় ২০১০ সালে সারা দেশ থেকে স্রোতের মতো বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসতে শুরু করেন। এতে বিও হিসাব খোলার হারও বেড়ে যায়। কিন্তু পুঁজিবাজারে ধসের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমার পাশাপাশি বিও হিসাব খোলার প্রবণতাও কমেছে। বরং প্রতিবছর আশঙ্কাজনকহারে বিও হিসাব বন্ধের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে প্রতিদিনের লেনদেনে।
সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সক্রিয় বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৮০ হাজার ৪২৬টি। ওই বছর নতুন হিসাব খোলা হয় ১৬ লাখ ৫ হাজার ৮৪০টি। বন্ধ হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৪টি।
সে বছর পুরুষ বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ১১ লাখ ৭০ হাজার ৩১টি এবং বন্ধ হয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮০৬টি। নারী বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৪টি। বন্ধ করা হয় ৬১ হাজার ৪৪৯টি।
২০১১ সালে এসে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৭ হাজার ২৩টিতে। এ বছর নতুন হিসাব খোলা হয় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮২১টি এবং বন্ধ করা হয় ৮ লাখ ৩ হাজার ২২৪টি।
এ বছর পুরুষ বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৮টি এবং বন্ধ হয় ৫৯ হাজার ৮০৬টি। নারী বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ৭৪ হাজার ১২৬টি এবং বন্ধ হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭টি।
২০১২ সালে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৪টিতে। এ বছর নুতন হিসাব খোলা হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭০টি এবং বন্ধ হয় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৯৯টি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে মোট বন্ধ হয়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ৪৩২টি বিও হিসাব।
এ বছরে পুরুষ বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৮৬টি এবং বন্ধ হয় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৯৪টি। নারী বিনিয়োগকারীর হিসাব খোলা হয় ৪৬ হাজার ৯৯০টি এবং বন্ধ হয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৬টি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় প্রতিদিনের লেনদেনে এর প্রভাব পড়ছে। গত এক বছরে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ দিনে। এছাড়া বছরের অধিকাংশ সময়ই লেনদেন ছিল ৫শ’ কোটি টাকার নিচে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৪টি। ২০০৮ সালে তা ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৪টিতে দাঁড়ায়। ২০০৯ সালের শেষ দিকে এসে বিও একাউন্টের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। তবে নির্ধারিত সময়ে নবায়ন না করায় বিপুল পরিমাণ নিষ্ক্রিয় বিও হিসাব বাতিল করার পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিও হিসাবের সংখ্যা ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টিতে দাঁড়ায়। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের আওতায় বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৭টি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না করায় গত বছর জুলাই মাসে প্রায় ১ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৩০ হাজার বিও হিসাব বাতিল করা হয়। তা সত্ত্বেও ৩১ ডিসেম্বর বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়ে ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৮ জনে দাঁড়ায়। সেই হিসাবে এক বছরে পুঁজিবাজারে নতুন প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে বড় ধরনের লোকসান দেওয়ার পর অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়ে চলে যান।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দীন আলী আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, “আইপিও বাজার চাঙ্গা থাকলে বিও হিসাব খোলার হুজুগ বেড়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক মন্দা বাজারে আইপিওতেও প্রত্যাশিত লাভ করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটেও দরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তবে বাজার স্বাভাবিক হয়ে এলে আবারও বিও হিসাব খোলার হার বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০১৩
জেডএম/জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর