 |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ও দোকান পাট বন্ধ থাকায় এলাকায় এক প্রকার হরতালের আবহ বিরাজ করছে। জুমার নামাজের পর ধর্ম ভিত্তিক দলগুলোর মিছিল সমাবেশ হওয়ার আশঙ্কায় বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশি সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় দেওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত শিবির তাণ্ডব শুরু করেছে। রাজধানীতে তারা নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই পুরো রাজধানীতে বিশেষ সতর্কবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর শুক্রবার ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সমাবেশকে কেন্দ্র এই নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে।
রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হাসান বাংলানিউজকে বলেন, রমনা জোনের পল্টন, বিজয় নগর, প্রেসক্লাবসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মতিঝিল জোনের মতিঝিল, দৈনিক বাংলা বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ও উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকাতেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র মতে, গত শুক্রবার ধর্ম ভিত্তিক ১২ দলের আড়ালে জামায়াত-শিবির বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। এই ঘটনায় রোববার হরতালও পালন করে তারা। পরবর্তীতে শুক্রবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের ডাক দেয়। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সাঈদীর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাঈদীর ফাঁসি হওয়ায় সারাদেশে তাণ্ডব শুরু হয়।
পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় নাশকতার আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব কঠোর অবস্থান নেয়। আতঙ্কে অনেক দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। ফলে এই এলাকায় এক প্রকার হরতালের আবহ বিরাজ করছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এটি তার অংশ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু পল্টনকে ঘিরে নয়, ডিপ্লোমেটিক জোনসহ পুরো রাজধানী জুড়েই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের আগে ও পরে সারা দেশে সহিংসতায় দলটির নেতাকর্মীসহ অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের তিন সদস্য, যুবলীগের তিন কর্মী এবং একজন প্রকৌশলীও রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গাইবান্ধায় চার পুলিশ সদস্যসহ ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
রায় ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও ভাঙচুর চালায়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরের হামলায় পুলিশ ও যুবলীগ কর্মীদের মৃত্যু হয়। রাতে উদভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের ৬টি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ ও হামলায় সাতক্ষীরায় ৭ জন, রংপুরের মিঠাপুকুরে ৬ জন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ জন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক পুলিশ সদস্যসহ ২ জন, কক্সবাজারে ২ জন, চাঁপাই নবাবগঞ্জে এক প্রকৌশলীসহ ২ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে পৃথক স্থানে ২ জন মারা যান। বগুড়া, দিনাজপুর, নাটোর, মৌলভীবাজারে এক জন করে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১১০২ ঘণ্টা, মার্চ ০১ ২০১৩
আইএ/এমআইএস/এমইউএম/এনএম/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর