 |
সংসদ ভবন থেকে: অবিলম্বে জাতীয় সংসদে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বিল আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মহাজোটের সিনিয়র এমপিরা। একই সঙ্গে তারা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারী ব্লগার রাজীব হায়দারের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, সরকারি দলের আবদুল মান্নান, এ কে এম রহমতউল্লাহ, জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাহানারা বেগম, ফরিদা আখতার, মো. শাহাবুদ্দিন, মোজাহারুল হক প্রধান প্রমুখ।
পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীরউত্তম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গত চার বছরে সরকারের সাফল্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে বলেন, “সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল।”
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে গণজাগরণ সৃষ্টি করায় তিনি তরুণ প্রজন্মকে ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে সারা দেশের তরুণ সমাজ আজ গর্জে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন অবশ্যই জয়ী হবে। কেননা, জনগণ যখন একতাবদ্ধ হয় তখন বিজয় ছিনিয়ে আনে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে।”
সরকারি দলের আবদুল মান্নান জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে অবিলম্বে সংসদে বিল আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, “স্বাধীন দেশে আর জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। দলটি নিষিদ্ধের দাবিতে আজ সারা দেশে জাতীয় ঐকমত্যের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। তাই আর কালক্ষেপণ না করে সংসদে বিল আনুন। সবাই মিলে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশকে আবর্জনা থেকে মুক্ত করি।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান কোনোভাবেই একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না। বরং তিনি যে যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের গুপ্তচর হয়ে কাজ করেছেন, তা জাতির সামনে প্রমাণ হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা হলে জিয়া কোনোভাবেই একজন কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, গণহত্যাকারী আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানাতে পারতেন না। যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতেন না।”
তিনি বলেন, “বিএনপিতে আজ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। একদিন বিএনপিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধাসহ পক্ষের নেতাকর্মীরা হয় স্বাধীনতার পক্ষের আওয়ামী লীগে আসবেন, না হলে খালেদা জিয়া ও জামায়াতকে ত্যাগ করে আরেকটি বিএনপি গঠন করবেন।”
তরুণ সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “তরুণ প্রজন্ম রাজীবের রক্ত বৃথা যায়নি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শামসুজ্জোহা রক্ত দিয়ে আইয়ুব খানের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তেমনি আজ রাজীবের রক্ত জামায়াতের ভিত নাড়িয়েছে। একাত্তরের পিশাচ, নরঘাতক জামায়াতের হরতাল প্রত্যাখ্যান করে জনগণ সেই জবাব দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার। অথচ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রাজবন্দি আখ্যায়িত করে তাদের মুক্তি চেয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি আমরা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও প্রত্যাখ্যান করবো।”
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এসএইচ/ সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com