 |
| ছবি : উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: ঢাকার পর এবার চট্টগ্রাম নগরীতেও অপরাধমূলক কর্মকান্ড দমনে অত্যাধুনিক `ওয়াচম্যান` প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো.শফিকুল ইসলাম ওয়াচম্যান-ডিজিটাল পুলিশ প্রটেকশন সিস্টেম (ডিপিপিএস) নামে এ প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন।
সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইজি গ্রুপ মূলত বাংলাদেশে এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আমদানিকারক। নগর পুলিশ ইজি গ্রুপের এ প্রযুক্তি সুবিধা গ্রহণ করে সেটিকে অপরাধ দমনের কাজে লাগাচ্ছে। এ প্রযুক্তি যারা গ্রহণ করবে তাদের প্রতিষ্ঠানে চোর-ডাকাত কিংবা যে কোন অপরাধীর আক্রমণ হলেই সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিএমপি কমিশনার মো.শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়াচম্যান-ডিপিপিএস প্রযুক্তি নিয়ে গত মাসে ইজি গ্রুপের সঙ্গে সিএমপি`র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকে ইজি গ্রুপ চট্টগ্রামের সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ পযুক্তি সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সিএমপি কমিশনার জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে এ পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এছাড়া ওয়াচম্যান-ডিপিপিএস প্রযুক্তির আওতায় নগরীতে একটি স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিএমপি কর্মকর্তারা জানান, যেসব স্থানে এ সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, সেখানে চুরি, ডাকাতিসহ যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে, কোন অনাহুত ব্যক্তির প্রবেশ ঘটলে, দরজা-জানালা ভাঙলে কিংবা আগুন লাগার মত ঘটনা ঘটলে নিমেষেই সে সংবাদ পৌঁছে যাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। সে সংবাদ আরও পৌঁছে যাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা তার মনোনীত ১০ ব্যক্তির মুঠোফোনে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, `এ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে আমাদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। কারণ, আমরা হাতেনাতে গিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারব। এতে অপরাধী শনাক্ত করাও সহজ হবে। দিন দিন অপরাধ কমে আসবে। আর ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া পাল্টে দেবে।`
এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য মানুষের সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, `মানুষ যত সচেতন হবে, প্রযুক্তির ব্যবহার ততই বাড়বে। আর অপরাধের মাত্রা ততই কমবে।`
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ইজি গ্রুপের পরিচালক শাহনূল হাসান খান বলেন, `ওয়াচম্যান সিসিটিভি`র চেয়েও আপডেট ডিভাইস। সিসিটিভি নষ্ট করে ফেললে আলামতও নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ওয়াচম্যানের উপর কেউ আক্রমণ করলে ভাঙ্গার পরও সে মোবাইলে তার উপর হামলার মেসেজ দেবে। আর একটি একদম মোবাইলের মত কডলেস ডিভাইস কিংবা ক্যামেরা।`
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, `আমাদের চেষ্টা থাকবে, চট্টগ্রামের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন তাদের নিজেদের স্বার্থে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করে সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।`
এ প্রযুক্তি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `এসব যন্ত্র সাধারণত দিনে বেশি ব্যবহার হবে। আর বাসাবাড়ির চেয়ে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এতে কোন ছবিও দেখা যাবেনা। মোট কথা, পুলিশ সতর্ক থাকলেই অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।`
ইজি গ্রুপের পরিচালক শাহনূল হাসান খান জানান, ডিভাইসটি স্থাপনের জন্য খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর প্রতিমাসে এটির ভাড়া বাবদ ইজি গ্রুপকে দিতে হবে ৫`শ টাকা।
পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য এ অর্থ খুব বেশি নয় বলে মন্তব্য করেন শাহনূল হাসান খান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহীদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) বনজ কুমার মজুমদার, তিন উপ-পুলিশ কমিশনার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ হেল বাকী, হাবিবুর রহমান, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত ও উত্তম কুমার পাল, নগর পুলিশের পাঁচ অতিক্তি উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, মো.শহীদুল্লাহ, তারেক আহম্মেদ, অনিন্দিতা বড়ুয়া, মিজানুর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল মান্নান, মনজুর মোর্শেদ, আরেফিন জুয়েল, মো.হাছান চৌধুরী, শাহরিয়ার আলী, মো.মইনউদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিন, নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৩
আরডিজি/টিসি