ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘জনগণের ক্ষমতায়নই প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র ও ভিশন। ১৯৬২ সালে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু একজন ছাত্রকর্মী হিসেবে শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দিয়ে।
সাম্প্রতিককালে অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (২০০৭-২০০৮) বিরুদ্ধে তিনি যে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, সেটাও জনগণের ক্ষমতা এবং সংসদ ফিরে পাওয়ার জন্যই।’
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতিসংঘে প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনগণের ক্ষমতা ও উন্নয়ন মডেলের আন্তর্জাতিক সম্মেলন সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য দানকালে ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।
সভার উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় এ বিশাল সম্মেলনটি হতে পারে।
এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সাতটি সেশনে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও অংশ নেন।
প্রস্তুতিমূলক সভায় বিকেলে সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ড. গওহর রিজভী আরো বলেন, প্রকৃত অর্থে জনগণের ক্ষমতায়ন করতে হলে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা থাকতে হবে। গত বছর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থাপিত মডেলে সাতটি প্রধান নির্দেশনা রয়েছে। সার্বিক অর্থে এতে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘ফিলোসফিক্যাল থট’ রয়েছে।
তিনি শান্তিকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত উল্লে¬খ করে বলেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধির অর্থ শুধুমাত্র মাথাপিছু আয়কে বোঝায় না। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান, নারী ও পুরুষের সমতা বিধানসহ বহু বিষয় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ড. গওহর রিজভী বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ সব ধরনের ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করতে হলে সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থাপিত ‘জনগণের ক্ষমতায়নের মডেল’-এর ধারণা দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত এই মডেল জাতিসংঘের একটি প্রধান কমিটিতে গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছে। এটাকে আনুষ্ঠানিক বিশ্ব মডেল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এখন এটা আরো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে। এ মডেলের লক্ষ্য হলো, প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, যারা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এবং বিশ্ব শান্তি পুনরুদ্ধারের মধ্যে রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসের সভাপতিত্বে সভার সমাপনী অধিবেশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ইউএন) সাইদা মুনা তাসনিম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মডেলটি মূলত মানুষ এবং মানুষের কল্যাণ কেন্দ্রিক।
প্রকৃত উন্নয়নের কথা এ মডেলে বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন এবং এ মডেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সকল মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত এ উন্নয়ন মডেলকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রচার ও প্রসারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভাপতির বক্তৃতায় পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের মূলস্রোতে আনার ক্ষেত্রে এ মডেল ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সময় : ২১৪৬ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
কেজেড/সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর