 |
| ছবি: (ফাইল ফটো) |
ঢাকা: হরতাল বিরোধী ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের নেতাদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে প্রস্তাবিত ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২’ চূড়ান্ত করতেও আইনজীবিদের মত নেওয়া হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য আ স ম ফিরোজ ও জুনাইদ আহমেদ পলক বৈঠকে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম এবং জাতীয় পার্টির এমপি মো. মুজিবুল হক চুন্নু বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২০১০ সালের ২২ জুলাই ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু। পরে এটি পরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়।
রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে জনগণের স্বাধীনতা বিঘিœ্ত হলে সেই দলের প্রধানসহ সর্বোচ্চ কমিটির বিরুদ্ধে মামলার বিধান রেখে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিলে ‘হরতাল’ শব্দটি কোথাও উল্লেখ না থাকলেও মূলত হরতাল বিরোধী বিল হিসেবে এটি পরিচিত। বিল উত্থাপনকারী সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বিভিন্ন সময়ে বিলটিকে হরতাল বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় এই আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী সর্বোচ্চ কমিটির প্রত্যেক সদস্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং কৃত অপরাধের জন্য তারা আলাদাভাবে দণ্ডিত হবেন।
বিলে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘জনস্বার্থ সংরক্ষণ আদালত’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এ আদালত নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে পারবে।
এতে বলা হয়, জনস্বার্থ আদালতে এ ধরনের অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। অপরাধ অ-জামিনযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সংঘটিত অপরাধের ধারণ করা ভিডিওচিত্র বা স্থিরচিত্র এবং টেপ রেকর্ডার বা ডিস্কে ধারণ করা কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া কর্মসূচি পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং কর্মসূচি প্রদান ও পালন জনস্বার্থমুখী করার লক্ষ্যে এ বিল আনা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে মুজিবুল হক চুন্নু বাংলানিউজকে বলেন, “বিলটি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তবে এটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের মত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।”
এদিকে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ চূড়ান্তে অ্যাটর্নি জেনারেল, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট আইনজীবীদের মত নেবে সংসদীয় কমিটি। মুজিবুল হক চুন্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোন আইন হয়নি।
আরো বলা হয়েছে, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে একদিকে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের যোগ্যতা, সততা, নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রযাত্রা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে রাশেদ খান মেনন কর্তৃক উত্থাপিত ‘খনিজ সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপনের জন্য রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়।
এছাড়া মো. ইসরাফিল আলম কর্তুক উত্থাপিত ‘বিদেশি নিবন্ধ বিল- ২০১২’ সংসদে পাশ না করার বিষয় উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এম শামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৭, ২০১২
এসএইচ/ জেডএম; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর