 |
সংসদ ভবন থেকে: অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ও দপ্তরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এখনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করুন। সংবিধান অনুযায়ী, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে কোনো সরকারি আদেশের প্রয়োজন নেই। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইন ও সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীই পারে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে।”
তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। নিজেরাই নিজেদের এ অধিকার হারিয়েছে। এজন্য নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই।”
তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’, আর ‘যাবজ্জীবন’ হলে বলে ‘সরকার আঁতাত’ করছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, ট্রাইব্যুনালে বিচার অত্যন্ত স্বচ্ছ, ন্যায়নিষ্ঠ হচ্ছে।”
বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী তাণ্ডবের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক রেলপথমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা কোনোদিন প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। সংবিধান সবাইকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু, কাউকে হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও তাণ্ডব চালানোর অধিকার দেয়নি।”
ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারত পাকিস্তান ভেঙছে। অর্থ-সাহায্য দিয়ে ও যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে সাহায্য করেছে। এটাই তার অন্তরের গোস্যা।”
অশুভ শক্তিকে আবারও পরাজিত করতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরাও অংশ নেবো। কোনো ভয়, ভীতি, সন্ত্রাস যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে পারবে না, বিচার হবেই।”
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুরে কে আপনাকে কী বুঝিয়েছে, আপনি দেশে এসে বলছেন- দেশে ‘গণহত্যা’ হচ্ছে। কীসের গণহত্যা? গণহত্যা হলো- জেনোসাইড। এর একটি ডেফিনেশন রয়েছে। গণহত্যা হয়েছে, এদেশে একাত্তরে। আপনি তো সে হত্যা দেখেননি। দেখলে দেশে বর্তমানে গণহত্যা চলছে বলে মন্তব্য করতেন না।”
খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “যখনই কোনো সংকট তৈরি হয়, তখনই আপনারা এদেশের সংখ্যালঘুদের কচু কাটা করেন। ৪৮, ৫২, ৬৪ ও ৭১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। কারণ, সংখ্যালঘুদের মারলে কেউ কথা বলে না।”
বাংলাদেশ সময়: ০০০০ ঘণ্টা, মার্চ ০৬, ২০১৩
এসএইচ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর