 |
| ছবি: সবিতা রহমান/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: ‘চারদিকে আজ একই আওয়াজ/ একই ধ্বনি শুনি/ কোথায় সেই রাজাকার কাদের মোল্লা/ একাত্তরের খুনি’ . . .
সঙ্গীত শিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌসের এমন নানা গানে সোমবার সকাল থেকেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর। গান গেয়ে সমবেত জনতাকে আরও উদ্দীপ্ত করে তুলছেন তিনি।
কুইন্স কলেজের শিক্ষক জান্নাত চাকরির সময় ম্যানেজ করে প্রতিদিন রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত থাকেন শাহবাগে। কাদের মোল্লার রায়ের দিন ঢাকার বাইরে থাকার পর যাবজ্জীবন শাস্তির কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান জান্নাত।
জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হবে এ কথা ভেবে ওইদিন সকাল থেকেই মনটা খুব ভালো ছিলো। আমরা আবার একটি বিজয় মিছিল করবো। কিন্তু রায় ঘোষণার পর স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় যখন শাহবাগের ব্লগারদের অবস্থানের খবর পাই। এর পর পরই শাহবাগে চলে আসি। যেহেতু আমি পেশায় একজন শিক্ষক, তাই ক্লাসের সময়টুকু আমি কর্মস্থলে থাকি। বাকি সময়টা আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনে কাটাই। আর সেই দাবি হচ্ছে, রাজাকারদের ফাঁসি।”
একাত্তরে বাংলার অনেক নারী রণসংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক হতে চান জান্নাত।
তিনি বলেন, “বিধাতার দানেই আমার এ সুর। এই সুরকে গলায় নিয়েই চাই শাহবাগের যুদ্ধে থাকতে।”
‘‘তবে যারা গণজাগরণ চত্বরের যোদ্ধাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না। কারণ, যোদ্ধারা কখনো কালো শক্তিকে ভয় পান না।’’
তার গানের মাধ্যমেই শাহবাগের গণআন্দোলনে শেষ পর্যন্ত থাকতে চান বলেও জানিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস।
কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের গণআন্দোলনের সোমবার ১৪তম দিন। এ আন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এ গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ গণআন্দোলনে যোগ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেয় লাখো জনতা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
ইউএম/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর, জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর- eic@banglanews24.com