৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, মঙ্গলবার মে ২১, ২০১৩ ৩:৩৮ পিএম BDST banglanew24
30 Jan 2013   06:01:21 PM   Wednesday BdST
E-mail this

বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি-বিসিবি মুখোমুখি!


স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম থেকে
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি-বিসিবি মুখোমুখি!

চট্টগ্রাম: খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চাপ দিচ্ছে টাকা পরিশোধের জন্য। খেলোয়াড়রা অন্যায্য দাবি করছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও বুঝতে পারছে টাকা না দিলে যে কোনো সময় দলের ভেতরে অন্তঃকলহ সৃষ্টি হতে পারে। এরপরেও ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তৎপর হচ্ছে না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

পারিশ্রমিকের দাবিতে এরই মধ্যে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিদেশি খেলোয়াড়রা সোচ্চার হয়েছেন। তাদের ভেতরে হাতাশাও ঢুকে পড়েছে। কিন্তু গ্ল্যাডিয়েটরস থেকে এখনও বিদেশি খেলোয়াড়দের হাতে চুক্তির প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেওয়া হয়নি। বিসিবিও এর দায় এড়াতে পারে না। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস খেলোয়াড়দের মোট পারিশ্রমিকের প্রথম কিস্তির টাকা বিসিবিকে দিয়ে রেখেছে। কিন্তু বিসিবি সেটা খেলোয়াড়দের একাউন্টে পাঠায়নি। এ নিয়ে সেলিম চৌধুরীর স্বরে ছিল বিরক্তি,‘আমি ১২ কোটি টাকার খেলোয়াড় কিনেছি। ২৫ শতাংশ হয় ৩ কোটি টাকা। ওই পরিমাণ টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে বিসিবিকে দিয়ে রেখেছি। সেটা ক্যাশও করেছে বিসিবি। টাকা পাওয়ার পর বিসিবি বলছে চুক্তিপত্র লাগবে। তিন তিনবার তাদের কাছে চুক্তিপত্র মেইল করা হয়েছে। এরপরও খেলোয়াড়রা টাকা পায়নি, কারণ তারা বলছে চুক্তিপত্রে কিছু ভুল আছে। এখন বলছে হার্ড কপিতে চুক্তি করতে হবে। সেটাও তাদেরকে দিয়েছি। খেলোয়াড়রা যে টাকা পাচ্ছে না সে দায় বিসিবির, আমার নয়। কারণ আমি তাদেরকে টাকা দিয়ে রেখেছি।’

সেলিম চৌধুরীর দাবি ঠিকই আছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের চুক্তি হয় সেটা কী তিনি অনুসরণ করছেন? বিসিবি কর্মকর্তাও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলছেন,‘সেলিম চৌধুরী সত্য বলছেন না। টাকা দিয়েছেন ঠিক আছে। খেলোয়াড়দের সম্মানী দিতে হলে চুক্তিপত্র লাগবে। রেমিটেন্স পাঠাতে হলে রাষ্ট্রের কিছু নিয়ম আছে। সে প্রক্রিয়া তিনি অনুসরণ করেননি। এছাড়া তিনি গতকালই (মঙ্গলবার) চুক্তিপত্র আমাদের হাতে দিয়েছেন। সেটা যাচাই হাওয়ার পর খেলোয়াড়দের সম্মানী আমরা তাদের একাউন্টে পাঠাতে পারবো।’

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস খেলোয়াড়দের ৪৮ পাতার চুক্তিপত্র করেছে সাদা কাগজে। এ ধরনের চুক্তি সাধারণত স্ট্যাম্প পেপারে হয়ে থাকে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পছন্দ হচ্ছে না সেলিম চৌধুরীর,‘বিসিবি প্লেয়ার কন্টাক্ট চেয়েছে। আমি দেওয়ার পর খুলনায় বিসিবি বলেছে আজ ওয়াইজ শাহর পেমেন্ট করে দিচ্ছি। তারা আমাকে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াইজ শাহ’র পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছে। রেমিটেন্স কপিও আমাকে দিয়েছে। সেটা ওয়াইজ শাহর কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। কিন্তু ওয়াইজ শাহ টাকা পায়নি। আসলে দেওয়ার সদিচ্ছা থাকলে একঘণ্টার ভেতরে তা সম্ভব। আমাকে দিলে আমি একঘণ্টার মধ্যে তা করে দিব। আগে টাকা দেক, চুক্তিপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা পরে ঠিক করে নেওয়া যাবে। তারা তা করছে না।’

সেলিম চৌধুরীর বর্ণনা মতে,‘ওয়াইজ শাহ প্রথমে আসতে চায়নি। তাকে বলা হলো বিসিবি সরকারি প্রতিষ্ঠান টাকা পাবে। তুমি চলে আস। আসার পর টাকা দিয়ে দেব। আমরা বিসিবিকে টাকা দিয়েছি। দুই তিনদিন যাওয়ার পর ওয়াইজ শাহ বলে টাকা কোথায়। তাকে বোঝালাম। এর কিছুদিন বাদেও যখন টাকা পায়নি তখন অন্যান্য বিদেশি খেলোয়াড়সহ ওয়াইজ শাহ আমার কাছে এসেছে। আমি বিসিবিকে বলেছি বিদেশি খেলোয়াড়রা এই দাবি করছে। বিসিবি তখন বলছে চুক্তিপত্র তো পাইনি।’

খেলোয়াড়দের সম্মানী পরিশোধ নিয়ে গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এবার বিসিবি সে দায়িত্ব নিয়েছে। খেলোয়াড়দের টাকা পরিশোধ করবে বিসিবি। সেলিম চৌধুরীর দাবি,‘চুক্তিপত্রের কোথাও উল্লেখ নেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা খেলোয়াড়দের টাকা দিবে। তুমি চুক্তি করেছো খেলোয়াড়দের সঙ্গে। টাকাটা তোমাকেই দিতে হবে। এরপর কিস্তিতে কিস্তিতে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে টাকা তুলে নিলেই হয়।’

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অদ্ভুত যুক্তিতে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারেননি বিসিবি কর্মকর্তারা। এমনকি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের খেলোয়াড়দের চুক্তির বিষয়েও অনুসন্ধানে আছে বিসিবির। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানালেন,‘নিলামে যে টাকায় একজন খেলোয়াড় কিনেছে গ্ল্যাডিয়েটরস। তারচেয়েও কম টাকা দেখানো হচ্ছে চুক্তিপত্রে। সেগুলোই সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে ফাঁক রেখে চুক্তিপত্র গ্রহণ করতে চায়নি বিসিবি।’

বিপিএলের প্রথম আসরেও ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিদেশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। বিসিবির তহবিল থেকে সেটা শোধও করা হয়। যদিও পরে গ্ল্যাডিয়েটরস বিসিবিকে পাওনা টাকা ফেরত দিয়েছে।

এদিকে বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই এখন পর্যন্ত বিসিবির কাছে খেলোয়াড়দের প্রথম কিস্তির টাকা দেয়নি। খুলনা রয়েল বেঙ্গলস এবং ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের টাকা বিসিবি পেয়েছে। তবে বরিশাল বার্নার্স সরাসরি খেলোয়াড়দেরকে ২৫ শতাংশ সম্মানী দিয়েছে। খেলোয়াড়রা চেক নগদও করেছেন বলে জানান দলের ম্যানেজার সাব্বির খান।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৩
এসএ/এফএইচএম  



 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

আজকের খেলা

খেলা

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান