১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ৬:২১ এএম BDST banglanew24
30 Jan 2013   12:35:57 PM   Wednesday BdST
E-mail this

বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান


মনোয়ারুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান

ঢাকা: বিগত ৪ বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ সংরক্ষণ, চিহ্নিতকরণ, নৌ-স্থাপনাদি নির্মাণ ও স্থাপন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন কার্যক্রমে একটি স্মরণীয় সময় অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ সময়ে প্র্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয়ও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ভবনে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই সেক্টরের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই বেসরকারি সেক্টরের সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।  

শামছুদ্দোহা বলেন, প্রবহমান নদীর সাথে’ স্লোগানে  সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিআইডব্লিউটিএ একটি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির শুরু ১৯৫৮ সালে।   

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের পর এই প্রথম বর্তমান সরকারের সময় একসঙ্গে তিনটি ড্রেজার সংযোজিত হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজার বহরে। পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌ-রুটে ২৪ ঘণ্টা খাদ্যশস্য, সার ও তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ৫০ কি. মি. নৌ-পথে নাইট নেভিগেশন স্থাপন করা হয়েছে।‍

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরের চারিদিকে নৌ-পথ চালুকরণ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে নির্মিত কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম যাত্রী চলাচলকারী বন্দর অর্থাৎ বরিশাল নদী বন্দরে আধুনিক টার্মিনালের নির্মাণকার্যও শেষ হয় গত বছর ১৯ মার্চ।
gm
নতুন স্বপ্ন পানগাঁও
সড়ক ও রেলপথের উপর চাপ কমানোসহ পণ্যের পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং কন্টেইনার সুবিধা রাজধানীর দোড়-গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গার পাড়ে পাঁনগাও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ  এ বছর হয়েছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এ কন্টেইনার টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা ২৩০০ টিইইউস এবং এখানে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। পানগাঁও আইসিটি চালু হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের এক তৃতীয়াংশ কার্গো নদীপথে পরিবহন করা সম্ভব হবে। দেশীয় পরামর্শকদের তত্ত্বাবধানে তৈরি নৌ কন্টেইনার পোর্টটির কেবল উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।   

মেগা প্রকল্প
শামছুদ্দোহা খন্দকার বলেন, ‘আপনারা জানেন, নাব্যতা সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি ঘাট বন্ধ হয়ে  গেছে। এগুলো হচ্ছে- গোয়ালন্দঘাট, ভাগ্যকূল, জসিলাদিয়া, গৌরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সরিষাবাড়ী,  গোদাগাড়ী, রাজশাহী, মিরকুটিয়া, পাকশী, জগন্নাথগঞ্জ ও ফুলছড়ি বন্দর। এসব চালু করা জরুরি।’

সারা দেশের নৌ-পথের নাব্যতা পুনরুদ্ধারসহ নাব্যতা সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আইডিয়া নিয়ে ৫৩ টি নৌ-পথ খননের জন্য বিআইডব্লিউটিএ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে সাক্ষাতকারে জানান তিনি।

এই মেগা প্রকল্পের আওতায় এরইমধ্যে ২৪ টি নৌ-পথ খনন প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯টি নৌ-পথ খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। ১২টি গুরুরত্বপূর্ণ নৌ-পথ খনন প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এছাড়া মৃত ও মৃতপ্রায় নদ-নদী পুনরুজ্জীবিত করে পুরাতন নৌ-পথসহ নতুন নৌ-পথ চালুর জন্য বিআইডব্লিউটিএ আরো কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন শীর্ষক প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য।

বেসরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকেও স্বাগত জান‍ানো হবে বলে জানান শামছুদ্দোহা খন্দকার।

তিনি বলেন, এখন বেসরকারি অনেক কোম্পানির ড্রেজার আছে। সবাই কাজ পাচ্ছে। তবে দেশে আরও ড্রেজারের চাহিদা আছে। ব্যাংকগুলো এ ব্যপারে লোনও দিচ্ছে।

নদীপথ উন্নয়নে যে কোনো বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। মাত্র কয়েক দশক আগেও এ দেশের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ। সড়কপথ উন্নয়নের ফলে নদীপথের চাপ কিছুটা কমে এসেছে। তবে এখনও দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। এছাড়া পণ্য পরিবহনে সড়কপথের তুলনায় নদীপথে কম খরচ হয়। এখনও পণ্য পরিবহনে নদীপথের গুরুত্ব বেশি।
 
সারা বছর সচল
দেশের সব নদীপথকে সারাবছর সচল রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেন, এজন্য প্রয়োজনে ড্রেজিং করা হচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ফেরি-রুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং মাওয়া-চর জানাজাত সারা বছর সচল ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিআইডব্লিউটিএ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাওয়া থেকে চরজানাজাত পর্যন্ত নৌ-পথের দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে এ রুটে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি চর পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে।

মেরিন হাইওয়ে
মেরিন হাইওয়ে প্রসঙ্গে ড. দোহা বলেন, আমরা মেরিন হাইওয়ের ব্যবস্থা করে করেছি। মাওয়া-চরজানাজাত নৌ-রুটে ফেরীসহ অন্যান্য নৌ-যানের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এ উদ্যোগ। মাওয়া- কবুতরখোলা-কাউলিয়ারচর-হাজরা-কাঠালবাড়ী-চরজানাজাত এবং মাওয়া-লৌহজং টার্নিং-মাগুরখন্দ-হাজরা-কাঠালবাড়ী-চরজানাজাত নৌ-পথে মেরিন হাইওয়ে করা হয়েছে। বাতি বিকনসহ সারি সারি লাল-সবুজের ড্রাম-বয়া স্থাপন করে সুরক্ষিত মেরি-হাইওয়ের অবয়বে পরিণত করা হয়েছে। এতে নৌপথ আরও নিরাপদ হয়েছে।

আয় বাড়ছে
সংস্থার আয় বাড়ার ব্যাপারে ড. শামুসুদ্দোহা বলেন, আমরা আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এভাবে ধারাবাহিকতা চললে আগামীতে আমরা স্ববলম্বী হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে পারবো। আমাদের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় বেড়েছে। নদী বন্দরগুলোর ফোরশোরে অবস্থিত শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘদিনের পাওনা আদায়সহ আয়ের খাতগুলো ব্যাপকভাবে মনিটরিং করায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে।

বন্দর ইজারা, কঞ্জারভেন্সি, খাল ব্যবহার, ড্রেজিংসহ নানা কাজের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ৭৭ দশমিক ৭৩ কোটি, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ৭৯ দশমিক ৩১ কোটি এবং ২০১০-১১ অর্থ বছরে  বিআইডব্লিউটিএ ৮৮ দশমিক ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। সেখানে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। যা ২০১০-১১ অর্থ বছরের তুলনায় ৪৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি। 
gm
ঢাকার চারদিক
ড. দোহা বলেন, আমরা ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার নৌ পথ ও ওয়াকওয়ে করেছি। এটা বাস্তবায়ন হলে যানজট একেবারে কমবে। জনগণ ওয়াটার বাসে যাতায়াত করতে পারবে। এসব ওয়াটার বাস নানা কারণে জনপ্রিয় না হলেও,  এই নৌ পথে কার্গোতে মালামাল পরিবহন হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার ট্রিপ মালামাল সদরঘাট থেকে আমিনবাজার ও গাবতলী রুটে লোডিং ও আনলোডিং হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, দেশের নদ-নদী রক্ষায় ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। পরবর্তী সময় এই টাস্কফোর্স নদী রক্ষায় বিভিন্ন সুপারিশ করবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর তীরে পায়ে চলা পথ তৈরি, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট জেলার গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডাবি্লউডি) মাধ্যমে পিলার নির্মাণ  কাজ হয়েছে। তবে নানা সমস্যার কারণে ঢাকার চারপাশে এসব পিলার স্থাপন আবারও সঠিকভাবে করা হবে।

রাজধানীর যানজট কমাতে ঢাকা শহরের চারদিকে নৌ-পথ প্রকল্পের আওতায় আশুলিয়া থেকে ডেমরা/কাঁচপুর পর্যন্ত নৌ-পথ উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা শহরের উপর চাপ কমানোর জন্য চারদিকে নৌ সার্কুলার ওয়াটার রুট করার লক্ষ্যে ঢাকা সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নৌ-পথে আটটি স্টেশন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গ বুড়িগঙ্গা
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেন, শীতলক্ষা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদী ঢাকার প্রাণ। বুড়িগঙ্গায় গত ২ বছর বর্জ্য অপসারণ কাজ চলছে। গত দেড় মাস আগে শুশুক দেখা গেছে। এখন আবার সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে দুইপাশে ২৫৭ টি বর্জ্যমুখ ।

তিনি বলেন, আমাদের টাস্কফোর্স কাজ করছে আগামী মাস থেকে আমরা নিয়মিত অভিযান করবো ও নোটিশ দেবো। বর্জ্যমুখগুলো বন্ধ করতে চেষ্টা করছি। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা মিডিয়ার সঙ্গে বসবো মানববন্ধন ও সেমিনার করবো।

এছাড়া বুড়িগঙ্গার তীরভূমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঢাকা শহর কেন্দ্রিক নৌ-পর্যটন সুবিধাদি বৃদ্ধি এবং নদীর তীরে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শ্যামপুরে উচ্ছেদকৃত ৭ একর জায়গার উপর নয়নাভিরাম ইকোপার্ক এবং বুড়িগঙ্গার তীরে ১৫ কি. মি. দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনবল সংকট
জনবল সংকট প্রসঙ্গে শামসুদ্দোহা বলেন, আমাদের বর্তমান জনবল প্রায় ৪ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ পদ খালি আছে। এই মাসে প্রায় ১৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পরে আরও ৩০০ লোক নিয়োগ হবে। আমাদের অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের মোট জমির পরিমাণ ৩২ হাজার বিঘা। শ’ খানেক জাহাজ আছে । প্রায় ২.৫ লাখ ভেসেল  চলছে দেশব্যাপী। আমাদের মাত্র ৩৫০ জন জাহাজের পাইলট আছে। আমাদের আরও পাইলট দরকার। সব চাহিদা পূরণে প্রায় ২০ হাজার পাইলট দরকার।

তিনি বলেন, সারাদেশে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নৌ-যান শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আঞ্চলিকভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম হিসেবে গত ১ এপ্রিল বরিশালে কর্তৃপক্ষের নৌ-কারখানা এলাকায় ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এরই মধ্যে ১৫০ জন নৌ-যান কর্মী ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষন নিয়েছে।

এছাড়া মাদারীপুরের চরমুগুরিয়ায় প্রায় ৭ একর জায়গার অপর একটি প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হয়েছে এবং শিবচরে অপর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।।

তিনি বলেন, নদীপথে নিরাপত্তার জন্য মন্ত্রনালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেরিন গার্ড বাহিনী করা হবে। এই বাহিনী হবে নৌ পুলিশের পরিপূরক। কারণ আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী হলে কাজ সহজ হবে।
 gm
উদ্ধারকারী জাহাজ
চেয়ারম্যান বলেন, দুর্ঘটনা কমলেও আমরা নানা নিরাপত্তা প্রস্ততি নিয়ে রাখছি। নৌ-পথে নৌ-যান নিমজ্জিত ও দুর্ঘটনা কবলিত হলে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য ১৯৬৪ সালে প্রথম উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা জার্মানী থেকে আনার পর এ পর্যন্ত মোট ৩১০ টি নিমজ্জিত নৌ-যান উদ্ধার করেছে।  ১৯৮৩ সালে বেলজিয়াম থেকে সংগৃহীত অপর উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম দিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২০ টি নৌ-যান উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামজা ও রুস্তম যৌথভাবে উদ্ধার করেছে মোট ৫৮ টি নৌ-যান।  

এছাড়া বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়াতে নির্মাণাধীন (২৫০+২৫০) মোট ৫০০ টন পর্যন্ত উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি আধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করার প্রচেষ্টা চলছে । শীগগিরই এসব জাহাজ জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে বলে জানান তিনি।

আবাসন
দেশব্যাপী সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নানা কাজ করা হচ্ছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান। ঢাকা শহর কেন্দ্রিক বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে এক দশমিক ২৯ একর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জায়গার উপর ডেভেলপারের মাধ্যমে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে কোয়ার্টার নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. দোহার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
২০১১ সালের ৫ অক্টোবর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরির্শক পদ থেকে প্রেষণে বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার।  এর আগে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এডিশনাল আইজিপির (নিয়োগ প্রশিক্ষণ) দায়িত্ব পালন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. দোহা বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম এফবিআই গ্রাজ্যুয়েট এবং সর্বপ্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা।

চাকরিরত অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদীর উপর গবেষণা করেন তিনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার তাকে কমনওয়েলথ বৃত্তির জন্য মনোনীত করে যুক্তরাজ্যে প্রেরণ করে।

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পদ্মা নদীর জল প্রবাহ, নদী শাসন ও বাংলাদেশের বন্যা সমস্যা’ বিষয়ে আড়াই বছরে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি নদী ও বন্যা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। এখনো তিনি বন্যা ও নদী গবেষণা বিষয়ে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তার জন্ম ১৯৫৫ সালে ৪ মার্চ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন কলাকোপা গ্রামে।

বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৩
এমআইআর/এসএনএইচ/সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান