 |
| ছবি: মোশাররফ/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
বনানী থেকে: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরে চলমান গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ব্লগার, কার্টুনিস্ট ও ছড়াকার তারিকুল ইসলাম শান্তর মরদেহ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে নেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরে স্লোগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়া শান্ত সোমবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মারা যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
শান্তর নামাজে জানাজা শেষে তার বড় ভাই শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া বনানী কবরস্থানে শান্তর জন্য স্থায়ী কবর এবং শান্ত নির্মিত ‘ঘরে ঘরে দূর্গ’ পুনঃ প্রচারের দাবি জানান।
অভিনেতা মামুনুর রশিদ বলেন, “শান্তর মৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক। মুক্তিযুদ্ধ শান্তর হৃদয়ে একটি গভীর জায়গা দখল করেছিল। শান্ত স্লোগান দিতে দিতে মারা গেছেন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। এ গণআন্দোলনে এ পর্যন্ত তিনজনকে হারালাম আমরা। নিঃসন্দেহে তারা সবাই শহীদ।”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “শান্তর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা আরও একজন সহযোদ্ধাকে হারালাম। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে মানুষের আবেগ কতোটা গভীর, স্লোগান দিতে দিতে শান্তর মৃত্যু তা আবারও প্রমাণ করল। আমরা বিশ্বাস করি, শান্তর মৃত্যু বৃথা যাবে না।”
আন্দোলনের সংগঠক ব্লগার ইমরান এইচ সরকার বলেন, “এই যুদ্ধে আমরা আরও একজন সহযোদ্ধাকে হারালাম। শান্তর মৃত্যু আমাদের আরও প্রেরণা যোগাবে।”
এছাড়াও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাবির উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অভিনেতা ঝুনা চৌধুরী, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।
শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের গণআন্দোলনে টানা অংশ নেওয়ার পর সোমবার বিকেল তিনটায় শিল্পী, পরিচালক এবং প্রযোজকদের নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে আসেন শান্ত।
সেখানে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এ সময় তার মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে গণজাগরণের অস্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম, নিউজরুম এডিটর