 |
| ফাইল ছবি |
চট্টগ্রাম: পুলিশের উপর হামলা, তান্ডবসহ সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে থাকা জামায়াত ইসলামীকে নগর পুলিশের মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন নগর পুলিশের কমিশনার মো.শফিকুল ইসলামও। তিনি জামায়াতের প্রতি সহানুভূতিশীল ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার অঙ্গীকার করে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি নিলেও বুধবার সন্ধ্যায় স্বরূপে ফিরে গেছে জামায়াত-শিবির। টায়ার জ্বালিয়ে, পটকার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে, বাসে আগুন দিয়ে তারা নগর জুড়ে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে দলটির নেতাকর্মীরা।
`বিতর্কিত` ট্রাইব্যুনাল বাতিল, শীর্ষ নেতাদের মুক্তি এবং তত্তাবধায়ক সরকার পুর্নবহালের দাবিতে জামায়াত-শিবির নগর পুলিশের কাছ থেকে মিছিল-সমাবেশ করার অনুমোদন নেয়।
চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনীতিক ও নাগরিকদের মতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবি তোলা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি তোলা চরম বেআইনী এবং অযৌক্তিক।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনতোষ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, `জামায়াত ইসলামী যেসব দাবি তুলেছে সেগুলো অবৈধ, অযৌক্তিক, বেআইনী। এসব দাবির সপক্ষে কর্মসূচী পালনের অনুমোদন দেয়াও অবৈধ, অযৌক্তিক ও বেআইনী। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার এ কাজ করে চট্টগ্রামকে কলংকিত করেছেন। তার চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া উচিৎ।`
একই দাবিতে বুধবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে, রাজশাহী, সিলেট, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি জামায়াত। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার তারা সারাদেশে হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়।
কিন্তু আকস্মিকভাবে বুধবার সকালে জামায়াত-শিবিরকে মিছিল, সমাবেশের অনুমতি দেয় নগর পুলিশ।
অনুমতি দেয়ার বিষয়ে দুপুরে বক্তব্য জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার বাংলানিউজকে বলেন, `জামায়াত ইসলামী লিখিতভাবে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে। তারা আমাদের কথা দিয়েছে, বিশৃঙ্খলা করবেনা। সেজন্য তাদের বিশ্বাস করে অন টেস্টে (পরীক্ষামূলকভাবে) অনুমতি দিয়েছি।`
এরপরও জামায়াত যদি অতীতের মত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে এর দায়ভার কে নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `বিশঙ্খলা প্রতিরোধে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে। তারা তো আমাদের কথা দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাবে।`
জামায়াত-শিবির পুলিশ কমিশনারকে কথা দিলেও সন্ধ্যায় ফের আতংক সৃষ্টি করে সেই কথা তারা শেষ পর্যন্ত রাখেনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সন্ধ্যায় বেশ কয়েকবার পুলিশ কমিশনারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, `পৃথিবীর যেসব দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে, এর কোথাও আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলার এখতিয়ার কারও নেই। বাংলাদেশে জামায়াত আদালতের বিরুদ্ধে কর্মসূচী পালন করতে চাওয়ায় সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে। এখন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার তাদের মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কাজ করেছেন। এটি করা তার উচিৎ হয়নি।`
একই প্রসঙ্গে সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো.শাহআলম বাংলানিউজকে বলেন, `পুলিশ কমিশনার নিশ্চয় তার চেয়েও উর্দ্ধতন কারও অনুমোদন নিয়ে এ অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মহলে জামায়াতের সঙ্গে কোন সমঝোতার খেলা চলছে কিনা সেটিই এখন বিবেচনার বিষয়। সেটি যদি হয়, তাহলে সেটা হবে চরম আত্মঘাতী।`
আইনজীবী মনতোষ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, `পুলিশ কমিশনার কিসের ভিত্তিতে কার বশ্যতা স্বীকার করে এ অনুমতি দিল, সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে খতিয়ে দেখা উচিৎ। যেখানে জামায়াত-শিবিরকে সামাজিকভাবে বয়কটের দাবি উঠেছে, সেখানে তাদের কর্মসূচী পালনের অনুমতি দেয়া আর জঙ্গীবাদ, নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দেয়া সমান কথা।`
এদিকে বুধবার সকালে অনুমোদন পেয়েই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করে। বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় বিশাল শোডাউনও করে জামায়াত-শিবির।
একইসঙ্গে জামায়াত ইসলামী বিকেল ৩টায় নগরীর স্টেশন রোডে সমাবেশ করারও ঘোষণা দিলে পরে তারা আর সমাবেশের জন্য আসেনি। সন্ধ্যায় তারা আতংক সৃষ্টির কর্মসূচীতে নামে।
সারাদেশে অনুমতি না পেলেও চট্টগ্রামে জামায়াত ইসলামীকে আকস্মিকভাবে মিছিল-সমাবেশের অনুমোদন দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, `সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াতকে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দেয়ায় তারা ধ্বংসাত্মক কাজে আরও উৎসাহিত হবে। পরবর্তীতে তাদের মোকাবেলা করাই পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।`
বাংলাদেশ সময়: ২০০০ঘণ্টা, জানুয়ারি৩০,২০১৩
আরডিজি/টিসি