চট্টগ্রাম: দেশের সংকট উত্তরণের জন্য মানুষ এখনও রাজনৈতিক নেতাদের ওপরই আস্থা রাখছে। উপমহাদেশের তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশেই রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষ বেশি আস্থাশীল।
‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনে রাজনীতিবিদদের নিকট প্রত্যাশা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণায় বিষয়টি ওঠে এসেছে। রাজনীতি বিষয়ক গবেষণাধর্মী সংগঠন ন্যাশনাল ডায়ালগ ফাউন্ডেশন (এনডিএফ) গবেষণাকর্মটি পরিচালনা করে।
বুধবার বিকেলে সংগঠনের লালখান বাজারের কার্যালয়ে গবেষণা কর্মের মোড়ক উম্মোচন করেন কবি সাংবাদিক আবুল মোমেন।
গবেষণা পত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনেক অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই জনগণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বর্তমান অবস্থার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্বসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক নেতিবাচক মনোভাব আছে। এর মাঝেও একটি ইতিবাচক মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো- দেশের সংকট উত্তরণের জন্য মানুষ এখনো রাজনীতিবীদদের উপরই বেশি আস্থাশীল।
তবে জনগণের হতাশার জায়গাও কম নয়। এরমধ্যে রয়েছে, গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংস্কৃতির বিকাশের সম্ভাবনা সৃষ্টির পরও ইতিবাচক ধারায় পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত ধীর। এমনকি এ ব্যাপারে রাজনীতিবিদ ও সামাজিক নেতৃত্বের উদাসীনতা ও উদ্যোগের অভাব জনগণকে অনেক বেশি আশাহত করেছে। এতে অধিকাংশ মানুষ দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গবেষণায় অনেকগুলো প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে । এরমধ্যে রয়েছে আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি, দ্বি-দলীয় বিভাজন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতা, রাজনীতিতে ধর্মীয় প্রভাব, আদর্শহীনতা, দুর্বৃত্তায়ন ও পৃষ্টপোষকতার সংস্কৃতি ইত্যাদি।
এসব প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণের জন্য গবেষণায় কিছু সুপারিশও ওঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে, রাজনীতি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মাঝে গড়ে ওঠা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের রাজনীতি বিষয়ক পাঠ্যসূচী প্রণয়ন। তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদদের মূল্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের জোরালো ভূমিকা পালন। রাজনৈতিক দলের কাঠামো ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরির জন্য নিয়ন্ত্রক বোর্ড গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের রাজনীতিবিদদের আত্মত্যাগের বিষয়টি স্মরণ রাখতে বছরের একটি বিশেষ দিন ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে।
পাশাপাশি অপ্রাপ্তবষয়স্কদের রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভূক্তি আইনের মধ্যেমে নিষেধ করা, ৭০ বছরের পর রাজনীতি থেকে অবসরের বিধান চালু করা, একই ব্যক্তির নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ছেড়ে দেওয়ার কথাও গবেষণায় ওঠে এসেছে।
মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ’র চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু। গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ। গবেষণার প্রেক্ষাপট ও মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন গবেষণা সেলের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মাছুম আহমেদ।
গবেষণা মোড়ক উম্মোচন শেষে আবুল মোমেন বলেন, ‘আমরা সাধারণভাবেই দেখছি তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষন করে। বিশ্বব্যাংকসহ সব দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে যে এদেশের সামাজিক সূচকগুলোর ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। তবে হতাশার জায়গা হচ্ছে রাজনীতিতে অসহিঞ্চুতা বেড়েই চলেছে। তারপরও দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের কাছেই কিছু পাওয়া সম্ভব বলে মনে করে।‘
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো বিকল্প নেই এ ধারণা সীমাবদ্ধতার চরম পরাকাষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়:২০০০ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০ ২০১৩
এমইউ/টিসি