 |
দ্বিধান্বিত নাবিক
আমি রোজ আসমুদ্র হিমাচল...
গুল্মলতার গন্ধ বুকে নিয়ে,
নতজানু হয়ে এক অতুল ভাস্কর্যের
আরাধনায় নিমগ্ন হই।
এই তুমি রোজকার
আমার ভালোবাসার তুমি;
কেন মনে হয়
তুমি নও সবখানি আমার!
অজানা দ্বীপে নোঙর করেছি
আমি দ্বিধান্বিত নাবিক। তাই
শূন্য বুকে হাত রেখে বলি
যাবো না ফিরে ঐ শূন্যের দিকে!
আলোর বিস্ময়
প্রদীপ হাতে আলোর দেবতা
ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আমার বিছানায়
আলোর বিচ্ছুরণে আনন্দ ছায়া খেলা করে...
পাশ ফিরে শুঁয়ে আছে অনন্তকালের বিস্তীর্ণ পথ,
নিঃশ্বাস নেই লু হাওয়ার,
নোনা স্বাদ নিয়ে হারিয়ে যাই রাতের অরণ্যে...
আনন্দ-আলোর ছোঁয়ায় কেঁপে ওঠে স্বপ্নের প্রান্তর,
স্বপ্নের আইল ধরে হেঁটে যাই এঁকেবেঁকে,
ক্ষাণিকটা ক্লান্ত অবসন্ন, তবুও উদাস পৃথিবীর
মৌনতা ভাঙতে আকাশকে সাক্ষী রেখে নিজেকে
সমর্পণ করি যাযাবরের অস্তিত্বে। আমি রঙ্গমাতাল,
রঙচটা চঞ্চু ভেদ করে আলোর বিস্ময়ে ছুটি...
দিব্যি কর্ণগোচর করি এমন শব্দে
ডংকা বাজিয়ে সমুদ্রের গর্জনে;
দেহের ভাঁজে ধ্রুপদির ঢেউ নিয়ে
আমি জেগে উঠি মা মাটি সমেত
এই বিশ্বচরাচরে!
কালো শীত
শীতের কালো পাহাড় ধেয়ে আসছে
প্যাডেলে পা, স্ট্যায়ারিংয়ে হাত
চারিদিকে সাদা বিড়ালের উৎপাত;
ছোপ ছোপ সাদা সাদা ছাপ...
আকাশে বাতাসে শীতের কনকনে আহবান
এসো ভালবাসি, ভালবাসি শীত পাথরের
এই কালো পাহাড়ের উত্তাপ!
ভগ্নাংশ
চিড়ল সময়ের বিষাদের ঘনঘটা যেন বিষধর সাপের মরণছোবল;
ফানা ফানা করছে চাঁদটাকে;
সূর্যের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে তামাটে সময় কাঁদছে এখন নিজ দূরত্বে।
ধোঁয়াটে জীবনের জটিলতায় কথপোথনের অনুষঙ্গে ভর করে কঠিন নীরবতা।
এখন নির্বাক নিষ্ফল পথের বাঁকে থমকে থাকে ক্লান্ত সময়।
কখনো কখনো দুপুর রোদ্দুরে উড়ে আসে উদাসী কোনো বার্তা
শব্দের কারুকার্যে বার্তাটা পরিহাসে ধূলোবালিতে গড়াগড়ি খায়
ঠিক নিজ আঙিনায়।
তখন উতলা উদ্যম অস্থির ভুলগুলো জাপটে ধরতে চায় বিশুদ্ধ সুন্দরকে।
কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় যে লেগে আছে না বলা কিছু কথা
ভাগ্যের দাবানলে বিশ্বাস আর যমের নিষ্পেষণে মূর্ত হয়ে আসে সেইসব কথা।
যে ঠোঁট ঠোঁট লেগে রক্ত ঝরে, ফোটে রক্তপদ্ম, ঝরায় অঝর পূর্ণিমার ধারা
আজ দেখি নির্ঘুম রাতে জানালার কার্নিশে ঝুলে থাকা চাঁদটা
যেন ছেয়ে আছে দুষ্ট দৃষ্টিতে;
শুধু দেখি নিয়ন আলোর পিচঢালা পথ
বুকে পাথর বেঁধে আর মুঠোভর্তি অশ্রু নিয়ে
পা বাড়াই সেই পথের দিকে।
বাংলাদেশ সময় : ১৫৩০ ঘণ্টা, ০৫ জানুয়ারি ২০১৩