 |
| ছবি: সায়মন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সাত দফা দাবি না মানায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে লাগাতার সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরুর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি শেষে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে সোমবার সকাল ৯টায় বিমান অফিস অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এ সময় বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় ঢুকতে পারেন নি।
পদস্থ কর্মকর্তারা সকাল ৯টায় বলাকায় ঢুকতে গেলে বিমানের আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়ে। পরে এসব কর্মকর্তা প্রধান প্রবেশপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মচারীদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলার কথা থাকলেও পরে সময় আরো আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পুন:নির্ধারণ করা হয়।
শ্রমিক-কর্মচারীরা সকাল ৯টার আগেই বলাকা ভবনের প্রবেশ মুখে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা শীর্ষ কর্মকর্তাদের অফিসে প্রবেশেও বাধা দেন।
এর আগে শ্রমিক-কর্মচারীরা রোববার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক আহমেদকে প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে মোসাদ্দেক আহমেদ আন্দোলনকারীদের কোনো দাবি না মেনে পুলিশ পাহারায় বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকা ত্যাগ করেন।
বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা দু’টি বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার, এয়ারলাইন্সের অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা মোসাদ্দেক আহমেদকে এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
মূলত গত বছরের মার্চে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের জের ধরে রোববার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স।
রোববার দুপুরে সামান্য সংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী বিমানের এমডির কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে গেলেও রাত সাড়ে ৯টা থেকে নতুন করে কয়েকশ’ শ্রমিক কর্মচারী এই আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় কয়েকশ’ শ্রমিক-কর্মচারী এমডির কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারীরা বাংলানিউজকে বলেন, “এর আগে অনেকবার আশ্বাস দিয়েও কোনো দাবিই মানে নি বিমান কর্তৃপক্ষ। তাই এবারের আর কোনো আশ্বাসে তারা বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। আর এজন্যই এবার কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছেন তারা। রোববার দুপুরে বিমান কর্মচারীরা যখন আন্দোলন শুরু করে তখন সংস্থার চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ অফিসে ছিলেন না।
এমডিকে অবরোধ করে রাখার সময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিমান কর্মচারীদের দেন-দরবার চলে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছানোর পর্যায়ে চলে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক আহমেদ তার অবস্থানে অনড় থাকায় সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
কর্মচারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে; শতভাগ মেডিকেল ভাতা প্রদান, বিমানের ইউনিফর্মের টাকা সংস্থা থেকে প্রদান, খাদ্য ভাতা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা, ৫ বছরের বেশি যেসব কর্মী ক্যাজুয়াল হিসেবে কাজ করছেন তাদের চাকরি স্থায়ী করা।
গত বছরের ৫ মার্চ থেকে বিমান বাঁচাও ঐক্য পরিষদ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। মার্চ মাস জুড়েই তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে ঐক্য পরিষদ নেতারা সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিমানমন্ত্রী ফারুক খান পরিষদ নেতাদের ডেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা ধর্মঘট স্থগিত করেন।
আন্দোলন প্রত্যাহারের পরপরই বিমান শ্রমিকলীগের সভাপতি মশিকুর রহমানকে প্রথমে শোকজ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মশিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিমান বাঁচাও ঐক্য পরিষদ রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
বিমান সংশ্লিষ্টদের দাবি, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দমনের জন্য মশিকুর রহমানকে চাকরিচ্যুত করতেই এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৭, ২০১৩
আইএইচ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর/জেডএম;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর