 |
বইমেলা থেকে : সন্ধ্যার পর আঁধারে ঢেকে গেছে বইমেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিদিন নিয়মিত সন্ধ্যায় যখন স্টলে স্টলে জ্বলে ওঠা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে পুরো বইমেলা চত্বর; তখন আজ সেখানে ভিন্ন চিত্র। সন্ধ্যায় নামা অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অবিরত পড়ছেই। মেঘ ও সন্ধ্যার আঁধারে ঢেকে যাওয়া বইমেলার স্টলগুলিতে দেওয়া হয়নি বিদ্যুতের সংযোগ। তাই আঁধারে ঢাকা এই সন্ধ্যায় ক্রমশই জনশূন্য হয়ে পড়ছে বইমেলার ১৭তম দিনটি। সাধারণ দিনগুলিতে সন্ধ্যাবেলাটাই থাকে জনকোলাহলে মুখরিত। কিন্তু আজ এ যেন এক ভূতুড়ে বইমেলা।
বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জমান বইমেলায় প্রকাশক ও বিক্রেতারা নিজ নিজ স্টলে বসে শীতে কাঁপছে। দু’একজন আগত দর্শনার্থীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আঁটোসাঁটো হয়ে। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া থেকে বইগুলো রক্ষা করতে স্টলগুলো পর্দায় মুড়ে ফেলেছেন বিক্রেতারা। তাই আজেকের দিনে নির্ধারিত সময় ফুরোবার আগেই বইমেলা অঘোষিতভাবে প্রায় ফুরিয়েই গেছে।
বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ জুড়ে যখন অন্ধকার, তখন একাডেমীর নিজস্ব ভবনগুলোতেই জ্বলছে আলো। স্টলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে। সন্ধ্যার পর যে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন, আলোক স্বল্পতায় তাই তাদের সুযোগ নেই বই দেখার।
বৃষ্টিতে আটকে পড়া মানুষগুলো একে একে জড়ো হচ্ছে মূল মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। শুধু সেখানেই আছে আলোর ব্যবস্থা। মাথার ওপর টানা সামিয়ানাতে আছে বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণের উপায়। আর অন্ধকার স্টলে বসা বিক্রেতারাও দুলছেন মূল মঞ্চ থেকে ভেসে আসা গানের সুরে। এ এক অদ্ভুত চিত্রের ব্যতিক্রম বইমেলা।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর