ঢাকা : জঙ্গি বলে সন্দেহভাজন দুই পাকিস্তানি নাগরিক হুমায়ুন কবীর ও তার ভাই নাসিরউল্লাহকে আজ পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তালেবান-সম্পৃক্ততার অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৮ জুন আটক হয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্ত এ দুই সহোদর। আজ সকালে তারা এসবি কার্যালয়ে হাজির হন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার আগাম তথ্যের ভিত্তিতে হুমায়ুন কবীর ও তার ভাই নাসিরউল্লাহকে হযরত বিমানবন্দরে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তারা আফ্রিকার মালাবি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে দু’জনের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৩ জুন এসবি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শর্তানুযায়ী আজ তারা এসবি কার্যালয়ে হাজির হন।
সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত মালিবাগে এসবি কার্যালয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এসবি’র একটি সূত্র জানায়, বিশেষ শাখার এএসপি মাহবুবুর রহমান, সিআইডির সিটি জোনের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একজন পদস্থ কর্মকর্তা পাকিস্তানি এ দুই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই পাকিস্তানি নাগরিকের কাছ থেকে তালেবান জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আগামী ৩০ জুন পুনরায় হাজির হওয়ার শর্তে তাদের আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসবি কার্যালয় থেকে বের হয়ে হুমায়ুন কবীর ও নাসিরউল্লাহ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি-কে জানান, তারা পাকিস্তানি নাগরিক হলেও তাদের দুই চাচাসহ স্বজন-পরিজনদের অনেকেই বাংলাদেশে বসবাস করেন। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমাও আছে। বর্তমানে তাদের বৃদ্ধ মা পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে থাকেন। আর্থিক অনটনের কারণে বাংলাদেশে কাজ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেষ্টা করছিলেন বলে তারা দাবি করেন।
বড় ভাই হুমায়ুন কবীর জানান, তালেবান যোদ্ধাদের কাছ থেকে তারা কোনো প্রশিক্ষণ নেননি, অন্য কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ছোট ভাই নাসিরউল্লাহ জানিয়েছেন, ঘন ঘন যাতায়াতের সুবিধার জন্য দুই ভাই বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। নাসিরউল্লাহ অযথা হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ১৭৩৪ ঘণ্টা, ২৩ জুন ২০১০