৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, সোমবার মে ২০, ২০১৩ ৫:০২ এএম BDST banglanew24
18 Feb 2013   04:09:47 PM   Monday BdST
E-mail this

ট্রাইব্যুনাল সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন


সাজিদুল হক, পার্লামেন্ট করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ট্রাইব্যুনাল সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

ঢাকা: যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনগুলোর বিচারের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস(ট্রাইব্যুনালস)(অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’- এর অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সোমবার স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটির অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।

সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলো। এখন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংশোধিত আইনটি কার্যকর হবে।

এর আগে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি জামায়াতসহ জড়িত সংগঠনগুলোর বিচারের বিধান রেখে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস)(অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’ সংসদে পাস হয় রোববার। বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব দেন। পরে সেটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। তবে এ বিলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। এছাড়া জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোরও কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

মেনন তার প্রথম সংশোধনীতে ৩(১) উপধারায় individuals শব্দ ও কমার পর or organization শব্দগুলো সংশোধন করার কথা বলেছেন।

আইনে পরিণত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল সংগঠনের বিচার করা যাবে।

বিলে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে সরকার, বাদী ও বিবাদীর আপিল করার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, আপিল করার ৬০ দিনের মধ্যে এর কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে হবে।

রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ সমাবেশে চলমান আন্দোলনের মুখে ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে ধরা হবে।

গত বুধবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। পরে এটি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সংসদে বিলের রিপোর্ট উত্থাপন করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফজলে রাব্বী মিয়া।

সংসদে উত্থাপিত বিলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার, দণ্ডিত ব্যক্তি ও যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে সংসদীয় কমিটি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিলের সুযোগ রাখার বিধান বাতিল করে সরকারপক্ষ, বাদী ও বিবাদীপক্ষের আপিলের সুযোগ রেখে প্রতিবেদন তৈরি করে। এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তি করতে হবে বলে পাস হওয়া বিলে বলা আছে।

সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা ছিলো, ৪৫ দিনের মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আরো ১৫ দিন পর্যন্ত এ সময় বাড়ানো যাবে। তবে সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী ৪৫ দিন ও ১৫ দিনের বিভাজন বাদ দিয়ে একবারে ৬০ দিনের বিধান রাখা হয়েছে।

পাস হওয়া বিলে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা (রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট) সম্পর্কে বলা না থাকলেও সংসদীয় কমিটি এ বিধান রাখার প্রস্তাব দেয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব নাগরিকের আইনের সমান আশ্রয় লাভের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে ২১(২) ধারায় তা প্রতিফলিত হয়নি। সে জন্য ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণেই ২১(২) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

দণ্ডিত ব্যক্তির আপিলের জন্য ২১(১) উপধারায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত বিচার লাভের অধিকারী। তাই সংশোধনীতে আপিল নিষ্পত্তির মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদেও সংগঠনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানের ৪৭ (৩) এ বলা হয়েছে, “এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ড দান করিবার বিধান-সংবলিত কোনো আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোনো বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনি বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।”

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
এসএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share

সংশ্লিষ্ট খবর


ট্রাইব্যুনাল বিলে অনুমোদন, রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩


REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

রাজনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান