 |
ঢাকা: কর্মী ঠকানো এবং তাদের কোনঠাসা করে রাখার সব পথ তৈরি করে রেখেছে গ্রামীণফোন। এ লক্ষ্যে খোদ টেলিনরের নির্দেশনাও অমান্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র জানায়, তিন বছর আগে কর্মীদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে টেলিনরের পক্ষ থেকে গ্রামীণকে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো। এতে বলা হয়েছিলো, ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ থাকলে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু টেলিনরের ওই পরামর্শ মানেনি গ্রামীণফোন। উল্টো ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দেওয়া হলে কি কি সমস্যা হতে পারে তা টেলিনরকে বোঝাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে এই সেক্টরে নাম করেছেন এমন একাধিক আইনজীবীর সহায়তাও নিয়েছিলো গ্রামীণফোন। ওই আইনজীবীদের মাধ্যমে টেলেনরের জন্য একটি রিপ্লাই লেটার তৈরি করা হয়েছিলো যাতে ট্রেড ইউনিয়ন না করার পক্ষে গ্রামীণের যুক্তিগুলো তুলো ধরা হয়।
বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে লেখা হয় ওই চিঠিতে।
শুধু তাই নয়, কর্মীদের কঠোর হাতে সামাল দিতে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খোঁজ লাগিয়ে পরে নিয়োগ দেওয়া হয় সিইও টরে জনসেন ও হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রধান হারুন ভাট্টিকে।
সূত্র জানায়, এই নিয়োগের পেছনে, গ্রামীণফোনে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট শর্তও ছিলো। অনুসন্ধানে জানা যায়, এদের দুজনই কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত বলে নামডাক আছে। মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানে তারা তাদের সে `যোগ্যতা`র প্রমাণও দিয়ে এসেছেন।
সূত্র আরও জানায়, ওই দুই বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াও দেশি কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ রয়েছে যারা মালিক পক্ষের হয়ে কর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এরাই ঢাকায় আইনজীবীদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করে গ্রামীণে ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী চিঠি লিখিয়ে টেলেনরে পাঠায়।
সম্প্রতি গ্রামীণের ব্যাপক ছাঁটাই প্রক্রিয়াটিও ত্বরান্বিত করতে টরে জনসেন ও হারুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে এই গ্রুপটি।
এদিকে, গ্রামীণফোনের কর্মীদের যারা এরই মধ্যে চাকরিচ্যুত হয়েছেন তারা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মামলা করতে যাচ্ছেন এমনটা জানা গেছে।
চাকরিচ্যুত একজন কর্মী বাংলানিউজকে জানান, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ তাদের বের করে দিয়েছে, তাতে তাদের ভবিষ্যতটাই অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাত্র তিন মাস আগে কর্মক্ষেত্রে ভালো করার জন্য অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার পেয়েছেন এমন কর্মীকেও তথাকথিত পরীক্ষার মাধ্যমে অযোগ্য প্রমাণ করে তাদের কর্মসংস্থানটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে যারা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি হাতে লেখা পদত্যাগপত্র নেওয়া ছাড়াও একটি প্রেসক্রাইবড ফর্মে সাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। এই ফর্মটিকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করেছেন চাকরি হারানোর হুমকিতে রয়েছেন এমন কর্মীরা। তাদেরই একজন বাংলানিউজকে বলেন, “সব ধরনের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে কাজ করে ক্যারিয়ারের ৭/৮ বছর পার করে এমন একটি সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির মুখে পড়ে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে।”
এদিকে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণফোনের সাধারণ কর্মীদের উদ্যোগে গঠিত অ্যাসোসিয়েশনকে সামান্যই পাত্তা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আইনগত বৈধতা ও সংগঠনের মাধ্যমে দরকষাকষির সুযোগ না থাকায় অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কর্মীরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, এ কাজে টেলিনরের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে পাঠানো চিঠিটিকে একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন কর্মীরা।
বাংলাদেশ সময় ১৩০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১২
এমএমকে-menon@banglanews24.com;সম্পাদনা: জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটরjewel_mazhar@yahoo.com