 copy201303040653212013030407122620130304232141.jpg) |
| ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে শীর্ষ ১০ আলেমকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক হওয়া আট শিবির ক্যাডারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে তাদের পৃথক দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নূরে আলম ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বাংলানিউজকে জানান, আলেমদের হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে দন্ডবিধির ১২০/খ ধারায় পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মাসুদ পারভেজ একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট শিবির ক্যাডারের মধ্যে পাঁচজনকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানাব। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে আলেমদের হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করব।’
তবে মঙ্গলবার রিমান্ডের আবেদন পাঠানো হয়নি বলে চট্টগ্রাম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া আট শিবির ক্যাডারের মধ্যে বাকি তিনজনকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রায় ঘোষণার পর নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় সহিংস তান্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আলেমদের হত্যা চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পাঁচ শিবির ক্যাডার হচ্ছে, মাহমুদুল হাসান, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, ইউনূস, জমির উদ্দিন এবং আরাফুল।
অপর মামলায় যে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তারা হল, রেজাউল করিম, ওসমান গণি এবং আরিফুর রহমান।
এর আগে সোমবার দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাটে মাদ্রাসার পাশে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় নগরীল ষোলশহর এলাকার জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার মোহাদ্দিস ওবায়দুল হক নঈমীকে খুঁজতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয় শিবির ক্যাডার মাহমুদুল হাসান। স্থানীয় জনতা মাহমুদুলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এসময় তার কাছে থাকা ১০ শীর্ষ আলেমের নামসহ একটি তালিকা পাওয়া যায়।
আটকের পর পুলিশকে মাহমুদুল জানায়, তালিকায় নাম থাকা ১০ আলেমকে খুনের পরিকল্পনা ছিল শিবিরের। এজন্য একটি কিলিং স্কোয়াডও গঠন করা হয়েছিল।
শিবিরের খুনের টার্গেট হওয়া ১০ শীর্ষ আলেম হচ্ছেন, নগরীর ষোলশহরের জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব জালাল উদ্দিন আল কাদেরী, উপাধ্যক্ষ ছগির আহমেদ ওসমানী, একই মাদ্রাসার মোহাদ্দিস ওবায়দুল হক নঈমী, মোহাদ্দিস আশরাফুজ্জামান আল কাদেরী, মুফতি অছিউর রহমান, মুফতি আব্দুল ওয়াজেদ, শিক্ষক ইউনূস, শিক্ষার্থী তাওহীদ এবং পাহাড়তলীর নেছারিয়া আলীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন জুবাইর ও সুন্নী আলেম আবুল কাশেম নূরী।
চট্টগ্রামের এসব আলেমরা সুন্নী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং জামায়াত বিরোধী হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০১৩
আরডিজি/টিসি