 |
| কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুলের ফ্যাকাল্টি ইন্ডিয়ান প্রতিনিধি সালমান (বাঁ থেকে), শ্রমবিষয়ক পার্লামেন্ট কমিটির প্রধান লেনারট ড্যামসবো অ্যান্ডারসন, ডেনিশ গ্রিন কার্ড অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ ফয়সাল ও প্রাক্তন ইউএসএ অ্যাটর্নি জেফ। |
ডেনমার্ক থেকে: অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের নিজেদের অর্থনীতিতে কাজে লাগানোর ইচ্ছা থেকেই ২০০৮ সালের শেষদিকে গ্রিন কার্ড স্কিম চালু করেছিল ডেনমার্ক, যা ইউরোপের মধ্যে অভিজ্ঞ প্রফেশনালদের আকর্ষণ করার প্রথম উদ্যোগ। যদিও ব্রিটেন সহ কয়েকটি দেশে কিছু স্কিম চালু ছিল এবং এখনো আছে, তবুও ডেনিশ গ্রিন কার্ড স্কিম চালু করার পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য ছিল।
এ স্কিম চালু হওয়ার চার বছর পর ২০১৩ সালে, অর্থাৎ আজকের দিনে এসে যদি একটু পেছনে ফিরে প্রশ্ন রাখি ডেনিশ গ্রিন কার্ড স্কিম কতোটুকু সফল? উত্তরটা শুনে সবাইকে হতাশই হতে হবে, অন্তত পরিসংখ্যা তাই বলছে। যতোটা ঢাকঢোল পিটিয়ে ডেনমার্ক এ স্কিম চালু করেছিল, বাস্তবে মনে হচ্ছে এটি ততোটাই ব্যর্থ!
উন্নত বিশ্বের ক্ষেত্রবিশেষে জনসংখ্যা বাড়ার শূন্য হার ও কর্মক্ষম জনসংখ্যার উল্লেখ্যযোগ্য অংশ পেনশনে যাওয়ায় কর্মক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের সংকট মোচনের জন্য গ্রিনকার্ড স্কিম চালুর অসামান্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে, বিদেশ থেকে আগত উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি প্রফেশনালসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রের প্রফেশনাল ভাইবোনেরা অদক্ষ কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে বাধ্য হচ্ছেন, বিশেষ করে এশিয়ান-আফ্রিকানরা। শিক্ষা ও প্রফেশন অনুযায়ী ডেনমার্কে কাজ জোগাড় করা যেন সোনার হরিণের পেছনে ছোটা। আর এ হরিণের পেছনে ছুটতে গিয়ে শিক্ষিত জনবলের একটি বিরাট অংশ তাদের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করে ফেললেও সঠিক কাজের সন্ধান মিলছে না।
এরই জের ধরে ডেনিশ গ্রিন কার্ড প্রফেশনালদের সংগঠন ডেনিশ গ্রিন কার্ড অ্যাসোসিয়েশন
বা ডিজিসিএ গত বছরের মাঝামাঝি থেকে ডেনিশ গ্রিনকার্ডের প্রধানসহ বর্তমান সরকারের শ্রম বিষয়ক পার্লামেন্ট কমিটির প্রধান লেনারট ড্যামসবো অ্যান্ডারসন ও রেডিকেল ভেন্সটার পার্টির প্রভাবশালী এমপি নাদিম ফারুকের সোঙ্গে পার্লামেন্টে এক সিরিজ সাক্ষাৎ করে। গ্রিন কার্ড প্রফেশনালদের সব সমস্যাসহ নানা বিষয় তুলে ধরার পর আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে ডেনিশ সংসদ অধিবেশনে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে বিজনেস রাইট, স্বল্প সময়ের মধ্যে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, ভিসা ফি কমানো ইত্যাদি বিষয়ে একটা সংশোধনী আনতে যাচ্ছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত শক্রবার আমাকে লেখা শ্রম বিষয়ক পার্লামেন্ট কমিটির প্রধান লেনারট ড্যামসবো অ্যান্ডারসনের এক ই-মেইল থেকে জানতে পারি, ডেনিশ পার্লামেন্টে গত সেশনে এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি এবং আশা করা যাচ্ছে সামনের অধিবেশনে তারা এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসবেন!
এদিকে, ডেনিশ পত্রিকা পলিটিকেন সূত্রে জানা গেছে, ডেনিশ কোয়ালিশন সরকারের মিত্র এসএফ মনে করছে অন্তত অভিবাসী নীতিতে বর্তমান সরকার সঠিক পথে হাঁটছে না।
আরেকটি বিষয় এখনে বলে রাখছি, ডেনিশ গ্রিন কার্ডের ব্যাপারে বাংলাদেশের চোখ ধাঁধানো
বিজ্ঞাপনে আপনারা প্রতারিত হবেন না। বিশেষত যাদের বাংলাদেশ থেকে একটি মাস্টার্স ডিগ্রি আছে, তাদের ডেনিশ গ্রিন কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আমাদের এডুকেশন ১০+২+৪+১= ১৭ বছরের (এসএসসি + এইচএসসি + স্নাতক + স্নাতকোত্তর), যার ফলে ডেনিশ শিক্ষা বছরের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছি। ফলে বাংলাদেশের মাস্টার্স ডেনিশ শিক্ষা লেভেলে ব্যাচেলার পর্যায়ে পড়ে ও গ্রিন কার্ডের পয়েন্টের ক্ষেত্রে ৬০ না পেয়ে অনেকে ৩০ পয়েন্ট পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে যাদের ডাবল মাস্টার্স ডিগ্রি আছে বা উচ্চতর শিক্ষা আছে, তারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। নাহলে অযথা অ্যাপ্লিকেশন ফির নামে অনেকগুলো টাকা পানিতে ফেলে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।
উল্লেখ্য, গ্রিন কার্ড নিয়ে ডেনমার্কে বসবাসরত প্রায় শ’তিনেক বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় সবারই অন্তত একটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে ও বাংলাদেশি ডিগ্রি নিয়ে ডেনমার্কে গ্রিন কার্ড প্রাপ্তের সংখ্যা ৫-১০ জনের বেশি আমার চোখে পড়েনি।
বাংলাদেশ থেকে যারা গ্রিন কার্ড নিয়ে ডেনমার্কে আসতে আগ্রহী, তারা বিস্তারিত আপডেট জানতে সবাইকে ডেনিশ গ্রীন কার্ড এ্যাসোসিয়েশনের ফেইসবুককে যুক্ত হতে পারেন http://www.facebook.com/#!/groups/dgca.members.
লেখক: প্রেসিডেন্ট, ডেনিশ গ্রিন কার্ড অ্যাসোসিয়েশন, ডেনমার্ক
বাংলাদেশ সময়: ১১৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
সম্পাদনা: হাসান শাহরিয়ার হৃদয়, নিউজরুম এডিটর