 |
ঢাকা: সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে পদ্মাসেতুর অর্ধেক টাকা দেশের পুঁজিবাজার থেকে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট মো. রকিবুর রহমান।
রোববার ডিএসই’র বোর্ড রুমে পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রকিবুর রহমান বলেন, “সরকারের কাছ থেকে প্রস্তাব পেলে পুঁজিবাজার থেকে পদ্মাসেতুতে অর্ধেক টাকা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি। তবে, এজন্য সরকারকে নির্দিষ্ট করে বলতে হবে, সেতু করতে কতো টাকা দরকার, পদ্মাসেতুতে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ কতো দরকার।
তিনি বলেন, “পদ্মাসেতু করার জন্য যমুনা বহুমুখী সেতুকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে, বিভিন্ন হোটেল মোটেলকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে টাকা সংগ্রহ করা যেতে পারে। এসব কোম্পানির একটা অংশ জনগণের কাছে ছেড়ে টাকা তুললে সবাই স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার সবচেয়ে কার্যকরী ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। পদ্মাসেতু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুঁজিবাজারই হতে পারে অংশীদার।”
ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট বলেন, “সরকারকে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অর্থনীতি বা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব না পড়ে। আগামী ৩ বছরে পর্যায়ক্রমে সরকারের হাতে থাকা কিছু কোম্পানি ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে দিলে পদ্মাসেতুর টাকা সংগ্রহ করা কঠিন হবে না।”
পুঁজিবাজার সমন্বয়ক কমিটির করণীয় সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো আশার সঞ্চার করতে চাই না। এ কমিটি বাজার স্থিতিশীল করতে মাসে কমপক্ষে একবার মিটিং করবে। প্রয়োজনে একাধিক মিটিং করতে পারবে।”
এছাড়া, এ কমিটিতে অন্য সদস্যরা তাদের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করবেন। বাজারের উন্নয়নে সমস্যা কি, তা সমাধানের উপায় কী হতে পারে এসব বিষয়েও কমিটির সদস্যরা স্ব স্ব জায়গা থেকে কাজ করবেন।
রকিবুর রহমান বলেন, “আমাদের এ কমিটির প্রধান কাজ হবে, যেসব বিষয়ে সমন্বয়হীনতা রয়েছে সে বিষয়গুলো সমন্বয় করা। প্রয়োজনে কমিটি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই ডিএসইতে ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক সূচক ও ডেরিভেটিভস মার্কেট চালু করবো।”
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক ও এফবিসিসিঅই’র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা পুঁজিবাজারের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তবে, আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকায় বিভিন্ন সময়ে কাজ করতে পারিনি। আমরা এখন কজ করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “পুঁজিবাজারে বিরাট পরিবর্তন আসবে। একদিনে যেমন বাজার পড়েনি, তেমনি একদিনে বাজার তোলা সম্ভব না। আমাদের বাজারে পুঁজির অভাব নেই, আছে সমন্বয়ের অভাব। আমরা সেই সমন্বয়ের কাজটি এখন করবো।”
কাজী আকরাম বলেন, “পদ্মাসেতু করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সব ধরনের সহায়তা দেবে। আমরা সবাই তাদের সঙ্গে রয়েছি।”
ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক সূচক চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি টাকা রয়েছে। এ সূচক চালু করতে পুঁজিবাজারে তাদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি ঘোষণা করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি মো. রকিবুর রহমান।
নয় সদস্যের এই কমিটির সমন্বয়ক ও মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান।
এছাড়া, কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি নুরুল আমীন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিপিএলসি) সভাপতি তপন চৌধুরী, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবি) সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, ইনভেস্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সভাপতি ফায়েকুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৩
এসএনএইচ/ সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর