 |
ঢাকা: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, “যদি হেমরাজের মাথা ফেরত না দেওয়া হয়, তবে তাদের (পাকিস্তানি সেনার) ১০ মাথা চাই!”
সোমবার নিহত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য ল্যান্স নায়েক হেমরাজ সিংয়ের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে উত্তর প্রদেশের শেরনগরে হেমরাজের বাড়িতে পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান বিজেপি প্রেসিডেন্ট নিতিন গাদকারি ও পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং এবং সুষমা স্বরাজসহ দলের নেতাকর্মীরা।
হেমরাজের পরিবার তাঁর মাথা ফেরতের দাবি জানিয়ে ভারতীয় লোকসভার বিরোধীদলীয় এ নেত্রী একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারকে অবশ্যই শহীদের (হেমরাজের) মাথা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিজেপির এ জ্যেষ্ঠ নেত্রী বলেন, “এ ঘটনার আমরা প্রতিশোধ চাই। আমরা যদি তার (হেমরাজ) মাথা না পাই, তবে তাদের (পাকিস্তানি সেনার) ১০ জনের মাথা চাই।”
মনমোহন সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কিন্তু একটি দুর্বল সরকারের কাছে এটা আশা করা যায় না।”
গত ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি সেনারা হেমরাজকে হত্যার পর তার মাথা কেটে নিয়ে গেছে বলে দাবি ভারতীয় সেনাবাহিনীর।
এদিকে, নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) অব্যাহত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ করতে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। জানা গেছে, সুষমাসহ বিজেপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন।
এদিকে, সোমবার দুপুর ১টার দিকে পুঞ্চ জেলার চাকান-দা-বাগে ভারত ও পাকিস্তানের কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫ মিনিটব্যাপী বৈঠকে ভারত পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়।
বৈঠকে, ভারতীয় সেনার মাথা বিচ্ছিন্ন করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকায় পতাকা বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ১০ কৃষ্ণঘাটি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার টিএস সান্ধু।
বৈঠকের আগে ভারতের সেনাপ্রধান বিক্রম সিং পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “উস্কানি অব্যাহত থাকলে প্রতিশোধ নেবে ভারত।” পাকিস্তান ভারতে এখন সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্রম সিং।
গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সেনার মধ্যে তিনবারের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনার অভিযোগ ওঠার পরেই এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ভারত-পাকিস্তানের ‘নিয়মিত’ এ বৈঠক ১৬ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল।
গত সপ্তাহের ৬, ৮, ১০ জানুয়ারি পাকিস্তান ও ভারতের সেনাবাহিনীর হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগের পরেই সোমবারের বৈঠক হলো। বৈঠকের আগের দিন রোববার মধ্যরাতেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ সময় : ২১৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৩
সম্পাদনা : হুসাইন আজাদ ও শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর/আরআর-eic@banglanews24.com